‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র দুর্নীতির ছায়া মহারাষ্ট্রে! ‘লড়কি বহিন’ প্রকল্পে অযোগ্যদের অ্যাকাউন্টে ৯ হাজার ৬০৫ কোটি
প্রতিদিন | ২৩ আগস্ট ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পেয়ে জেলায় জেলায় ক্ষোভ বাড়ছে। যদিও ঝাড়াই-বাছাই করে যোগ্যদের টাকা পাওয়ার বিষয়ে বারবার আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে অন্য মন্ত্রীরা। কেন যাচাইয়ের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তার প্রমাণ মিলেছে আর এক বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে। রাজ্যের ‘লড়কি বহিন’ (Ladki Bahin Yojana) প্রকল্পের একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য বাংলার পক্ষেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তথ্যের অধিকার আইনে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে ওই প্রকল্পের আওতায় অযোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে ৯,৬০৫ কোটি টাকা। দু’বছরে একাধিকবার উপভোক্তা তালিকা যাচাইয়ের পরেও প্রায় ৯২ লক্ষ অযোগ্য ব্যক্তি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন।
মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকার ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লড়কি বহিন যোজনা’ চালু করেছিল। আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের মহিলাদের এই প্রকল্পে প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে মহাযুতি জোটের জয়ের পিছনে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। তবে শুরু থেকেই রাজ্যের কোষাগারের উপর প্রকল্পটির বিপুল আর্থিক চাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবার তথ্যের অধিকার আইনে পাওয়া পরিসংখ্যানে প্রকল্প পরিচালনায় বড় ধরনের গলদ সামনে এসেছে।
২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মহারাষ্ট্র সরকার প্রায় ৯২ লক্ষ অযোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে মোট ৯,৬০৫ কোটি টাকা পাঠিয়েছে বলে আরটিআই তথ্যে দাবি করা হয়েছে। যাচাইয়ের পরে তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর মধ্যে মধ্যে-প্রায় ৬২ লক্ষ উপভোক্তা ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করেননি। ১৬ লক্ষ পরিবারের বার্ষিক আয় নির্ধারিত আড়াই লক্ষ টাকার সীমার বেশি। ৩ লক্ষ ৬০ হাজার উপভোক্তা আগে থেকেই সঞ্জয় গান্ধী নিরাধার অনুদান যোজনার সুবিধা নিচ্ছিলেন। আর আড়াই লক্ষ ক্ষেত্রে একই পরিবারের একাধিক সদস্য নাম নথিভুক্ত করেছিলেন।