• হাসিনার প্রত্যর্পণ ঘিরে দিল্লি-ঢাকা চাপানউতর! বিতর্কের মাঝেই ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা জয়শংকরের
    প্রতিদিন | ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • প্রায় দেড় বছর ধরে ভারতে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ে’ রয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে সে দেশে গণহত্যায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যার্পণের জন্য বারবার অনুরোধ জানাচ্ছে ঢাকা, যা ঘিরে দু’দেশের চাপানউতর ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর (S Jaishankar)।

    শনিবার দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন জয়শংকর। সেখানে তিনি বলেন, “যে কোনও সম্পর্ক সফল করতে গেলে পারস্পরিক স্বার্থরক্ষার পরীক্ষায় পাশ করতে হয়। সম্পর্কটি যাতে দু’পক্ষের জন্যই ফলপ্রসূ হয়, তা নজর রাখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলিকে নিয়ে ভারত বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। অন্য দেশগুলি কেবল ভারতের স্বার্থেই কাজ করবে -এমনটাও আমরা আশা করি না।” বিদেশমন্ত্রী বলেন, “তাদের স্বার্থের বিষয়টিকে আমাদের যেমন স্বীকৃতি ও সম্মান জানাতে হবে, তেমন আমরাও তাদের কাছ থেকেও একই আচরণ প্রত্যাশা করি।” জয়শংকর স্পষ্ট করেছেন, উভয় পক্ষ কোনও সমঝোতায় না পৌঁছলে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু অগ্রগতি সম্ভব। ভারতের সব প্রতিবেশীর সঙ্গেই পারস্পরিকতার নীতি প্রযোজ্য।

    সম্প্রতি খবর ছড়িয়েছিল, শীঘ্রই ভারত সফরে আসতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রকের আধিকারিক এ কে এম শহিদুল করিম। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। সেটা হচ্ছে কিনা আমরা আপাতত সেদিকে নজর রাখছি। তাই বলতে চাই, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে যে আবেদন করেছি, সেই নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিক ভারত।” এখানেই শেষ নয়, ওসমান হাদি খুনে দুই অভিযুক্তকেও দ্রুত প্রত্যর্পণ করুক ভারত, চাইছে ঢাকা।

    উল্লেখ্য, দু’বছরেরও বেশি সময় ভারতের আশ্রয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বদেশে তাঁর বিচার হয়েছে, ফাঁসির সাজা ঘোষণা হয়েছে। হাসিনাকে ঢাকার হাতে প্রত্যর্পণ নিয়ে ইতিমধ্যে দু’দেশের মধ্যে চাপানউতোর পর্ব চলেছে। হাসিনা নিজে গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে ভারচুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে দৃঢ়কণ্ঠে জানিয়েছেন, মৃত্যু পরোয়ানা নিয়েই তিনি ডিসেম্বর অর্থাৎ স্বাধীনতার মাসে দেশে ফিরবেন। সূত্রের খবর, হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালতই। সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে দু’দেশের শীর্ষস্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর।
  • Link to this news (প্রতিদিন)