‘সংরক্ষণ দয়া নয়, কেউ চাইলেই বন্ধ হবে না’, আন্দোলনকারীদের সাফ বার্তা মোদির মন্ত্রীর
প্রতিদিন | ২৩ আগস্ট ২০২৬
দিল্লির যন্তর মন্তরে কোটা বিরোধী আন্দোলন যতই জোরালো হোক কোনওভাবেই সংরক্ষণ বন্ধ করা হবে না। মোদি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান। তিনি বলছেন, “সংরক্ষণ দয়া নয়। পিছিয়ে পড়াদের অধিকার। তাই কেউ চাইলেই সেটা বন্ধ করা যায় না।” আজকের দিনে এসেও যে সংরক্ষণ সামাজিক সাম্যের জন্য ভীষণ জরুরি, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন চিরাগ।
‘সংরক্ষণ গরিবরা পাক, জাতির ভিত্তিতে নয়।’ শুক্রবার রাজধানীর রাজপথে এই আওয়াজ তুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বহু মানুষ। ব্যানার পোস্টার হাতে স্লোগান দিতে দেখা যায় বহু মানুষকে। বিক্ষোভকারীরা যাতে প্রতিবাদস্থলে পৌঁছতে না পারে তার জন্য বাধা দেওয়া হয়। তারপরও ভিড় রোখা যায়নি। রাত পর্যন্ত শ’য়ে শ’য়ে বিক্ষোভকারী হাজির হন। স্লোগান ওঠে, “গরিবো কো আরক্ষণ মিলে, জাত কো নেহি।” শেষে পুলিশকে কড়া হাতে বিক্ষোভ দমাতে হয়। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে মারধর করে আধাসেনা এবং পুলিশ। জনা পঞ্চাশ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
এমনিই সিজেপির বিক্ষোভের জোরে সরকারকে মাথা নোয়াতে হয়েছিল, এবার সংরক্ষণ নিয়ে সরকার শুরু থেকেই সতর্ক। আন্দোলনকারীদের জমি ছাড়তে নারাজ। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান বলছেন, “সংরক্ষণ কারও দয়া নয়, এটা দলিত-আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার। যে সব জাতি বছরের পর বছর ধরে অত্যাচারিত, অবহেলিত তাঁদের সামাজিক ন্যায় প্রদানের লক্ষ্যে সংরক্ষণ চালু হয়েছিল। কেউ দাবি করলেই সেটা সরানো যাবে না।” তবে কোনওভাবেই আন্দোলনকারীদের কড়া হাতে দমন করার পক্ষে তিনি নন। পাসওয়ান বলছেন, “আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হতে পারে। আমরা আলোচনার টেবিলে আন্দোলনকারীদের সংরক্ষণের গুরুত্ব বোঝাব।”
এই মুহূর্তে ভারতে দু’ধরনের সংরক্ষণ চালু রয়েছে। একটি জাতের ভিত্তিতে। মোটামুটিভাবে তফসিলি জাতির জন্য ১৫ শতাংশ, তফসিলি উপজাতির জন্য ৭.৫ শতাংশ, ওবিসিদের জন্য ২৭ শতাংশ সংরক্ষণ চালু রয়েছে। যদিও এই সংখ্যাটা বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্নরকম। এর বাইরে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের জন্য সার্বিকভাবে গোটা দেশে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ চালু রয়েছে। কোটা বিরোধী বিক্ষোভকারীরা মূলত ওই জাতের ভিত্তিতে সংরক্ষণের বিরোধিতা করছেন। কিন্তু সরকার তাঁদের দাবি মানবে না।