এবার মিষ্টিমুখ করতেও মধ্যবিত্তের পকেটে ছ্যাঁকা! মহার্ঘ চিনি। গত ২০ দিনে ২০ টাকারও বেশি বেড়েছে প্রতি কেজিতে। আর তার জেরে কার্যত মাথায় হাত পড়েছে শক্তিগড়ের ল্যাংচা ব্যবসায়ীদের। ল্যাংচা তৈরির বিশেষ ঐতিহ্য বহন করে আসছে শক্তিগড়, সেখানেও উৎপাদন খরচের গুঁতোয় মন্দার মুখ দেখার আশঙ্কা ব্যবসায়। এই পরিস্থিতিতে মিষ্টির দাম বাড়ানো হবে, না কি মিষ্টি সাইজে ছোট করে দেওয়া হবে, তা নিয়েই দোটানায় ল্যাংচা ব্যবসায়ীরা।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে টান পড়ে জ্বালানিতে। সেই চাহিদা পূরণে পেট্রোলে ইথানল মেশানোর অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এদিকে ইথানল তৈরিতে প্রয়োজন চিনি। অন্যদিকে, রাজ্যে সেভাবে চিনির উৎপাদনও হয় না। অন্য রাজ্য থেকে আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। যদিও চিনির দাম বাড়ার সঙ্গে ইথানল উৎপাদনের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করে বিবৃতি প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। অভিযোগ, জোগান কম থাকার কারণেই হু হু করে দাম বাড়ছে চিনির। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সপ্তাহখানেক আগেও খোলা বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। তা বেড়ে হয়েছে ৭২ টাকা। যার জেরে ধাক্কা খাচ্ছে মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। শক্তিগড়ের ল্যাংচা ব্যবসায়ীদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ। কারণ মিষ্টি তৈরির প্রধান উপকরণ চিনি।
জানা গিয়েছে, শক্তিগড়ে ল্যাংচার দাম শুরু হয় সর্বনিম্ন সাত টাকা থেকে। ধাপে ধাপে দশ, পনেরো, কুড়ি টাকা প্রতিপিসেও বিক্রি হয় ল্যাংচা। স্বভাবতই চিনির দাম বাড়তে থাকায় মুনাফা তো দূর, লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এই অবস্থায় ল্যাংচার দাম বাড়ানো হবে নাকি মিষ্টির আকার ছোট করে দেওয়া হবে, তা নিয়েই কার্যত আতান্তরে ব্যবসায়ীরা। এই প্রসঙ্গে শক্তিগড়ের এক ল্যাংচা ব্যবসায়ী বলেন, “চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় ল্যাংচা তৈরির খরচও বেড়ে গিয়েছে। দাম বাড়াব, নাকি মিষ্টির আকার ছোট করব তা বুঝে উঠতে পারছি না।” ক্রেতাদের কথায়, “এত দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের পকেটেই তো চাপ বাড়বে।”