• পাহাড় থেকে ঝাঁপ: শুধুই আইফোন নিয়ে বচসা, নাকি পারিবারিক অশান্তি? মায়ের পুরোনো ভিডিয়োয় প্রশ্ন
    এই সময় | ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • মহারাষ্ট্রে পাহাড় থেকে পড়ে বাবা-মা এবং সন্তানের মৃত্যুর নেপথ্য কারণ কি শুধুই আইফোন নিয়ে বচসা, নাকি পারিবারিক অশান্তিও? বছর আঠারোর যুবক কুণালের মা সঙ্গীতার একটি ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    সদ্য কেনা আইফোনের ইএমআই-এর জন্য বাড়িতে টাকা চেয়েও না পেয়ে রাগে কোঢ্যা পাহাড়ে উঠে পড়েছিলেন কুণাল। তাঁর পিছন পিছন ছুটে যান বাবা মুরলীধর এবং মা সঙ্গীতাও। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে খাদের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেকে তাঁরা বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কুণাল তাঁদের কথা শুনতেই চাননি। উল্টে মা-বাবাকে ভয় দেখান, কাছে এলেই তিনি পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেবেন। একসময়ে বাবা ছেলেকে টেনে আনতে গেলে দু’জনেই ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যান। এই দৃশ্য দেখে পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন সঙ্গীতাও। গত শুক্রবার সকালে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগর জেলার তিসগাঁও এলাকার এই ঘটনায় গোটা দেশ জুড়েই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

    গত শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগর জেলার তিসগাঁও এলাকার কোঢ্যা পাহাড়ে উঠে পড়েছিলেন কুণাল। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি সম্প্রতি একটি আইফোন কিনেছিলেন। তার ইএমআই দেওয়ার জন্য বাড়িতে টাকা চান। না পেয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। রাগারাগি করে তার পরেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন এবং পাহাড়ে খাদের ধারে চলে যান। তাঁর পিছন পিছন ছুটে এসেছিলেন সঙ্গীতা এবং তাঁর স্বামী মুরলীধরও। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেকে তাঁরা বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সামনে এলেই ঝাঁপ দেবেন বলে বাবা-মাকে ভয় দেখাচ্ছিলেন তরুণ। আশপাশে গ্রামবাসীও জড়ো হন। একসময় ছেলেকে টেনে আনতে এগিয়ে যান বাবা। দু’জনে একসঙ্গে ২০০ ফুট গভীর খাদে গড়িয়ে পড়েন। চোখের সামনে সেই দৃশ্য দেখে সঙ্গীতাও ঝাঁপ দেন।

    সেই আবহে সঙ্গীতার একটি ভিডিয়োবার্তা প্রকাশ্যে এসেছে। সেই ভিডিয়োটি ঘটনার আগের দিন সঙ্গীতাই নিজের ইউটিউব চ্যালেনে পোস্ট করেছিলেন। মিনিটখানেকের ভিডিয়োতে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘যে তোমাকে আর তোমার ভালোবাসাকে গুরুত্ব দেয়, তার জন্য জীবন দিয়ে দিতে প্রস্তুত হও। যদি কেউ তোমাকে গুরুত্ব না দেয়, তার জন্য কিছু করার মানে নেই। রুটি দু’দিক দিয়ে সেঁকা হলে তবেই ভালো লাগে। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তা-ই। দু’দিক থেকে চললে, দু’জনেই সম্পর্ককে গুরুত্ব দিলে সেই সম্পর্কে থেকে যাওয়া উচিত। না হলে সম্পর্কের কোনও অর্থ হয় না। তা থেকে বেরিয়ে আসাই ভালো।’

    আরও একটি ভিডিয়োয় পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনদের আচার-ব্যবহার নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সঙ্গীতা। প্রসঙ্গত, বছর ছয়েক আগে বড় ছেলের মৃত্যুর পর থেকে আর স্বামীর সঙ্গে থাকতেন না সঙ্গীত। আলাদা থাকা থাকতেন।

  • Link to this news (এই সময়)