• মোহনবাগানকে নিয়ে ছেলেখেলা, এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, হাবাসের মাস্টারস্ট্রোকে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের
    আজকাল | ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের। ২০০৪ সালের পর ২০২৬। কলকাতায় প্রথম। মোট ১৭ বার। ছুঁয়ে ফেলল মোহনবাগানকে। ম্যাচের বয়স মাত্র ২২ মিনিট। স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে ৩-০। যুবভারতী লাল হলুদের দখলে। ২২ মিনিটের ঝড়ে ডুবল পালতোলা নৌকা। শেষ কোন ডার্বিতে শুরুতেই এমন স্কোরলাইন হয়েছে জানা নেই। কিন্তু আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের মাস্টারস্ট্রোকে লাল হলুদে বসন্ত। নব্বই মিনিটের শেষে স্কোরলাইন ৪-১। পাঁচ গোলের লজ্জার হাত থেকে বাঁচল মোহনবাগান। প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল। ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে ৪-১ গোলে। প্রথম ৪৫ মিনিটেই হ্যাটট্রিক এডমুন্ড লালরিনডিকার।

    ডার্বির ইতিহাসে প্রথমার্ধে পাঁচ গোল হয়নি। হয়নি হ্যাটট্রিকও। কিন্তু এদিন ৪৪ মিনিটে নিজের তৃতীয় এবং দলের চতুর্থ গোল করেন মিজোরামের মিডফিল্ডার। গতবছর ডার্বিতে গোল করেছিলেন। তবে সেই ম্যাচ ১-১ গোলে শেষ হয়। কিন্তু রবিবাসরীয় যুবভারতীতে এডমুন্ড ঝড়ে তছনছ সবুজ মেরুন। লকগেট খোলেন বিপিন সিং। বাকিটা এডমুন্ডের। ম্যাচের ১২, ২২ এবং ৪৪ মিনিটের গোলে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন।

    বাইচুং ভুটিয়া, এডে চিডি, কিয়ান নাসিরিদের তালিকায় নাম লেখালেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। ভারতীয় হিসেবে তৃতীয়। ডার্বিতে প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক এই প্রথম। হাবাসের মগজাস্ত্রে বাজিমাত। দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেন স্প্যানিশ কোচ। লাল হলুদের হটসিটে ডার্বি দিয়ে অভিষেক হয় হাবাসের। কিন্তু তার আগে মাত্র দু'দিন অনুশীলনের সুযোগ পাওয়ায়, রেজাল্ট তাঁর বিরুদ্ধে যায়। সাহাল আব্দুল সামাদের একমাত্র গোলে ডার্বি জেতে মোহনবাগান। কিন্তু ফাইনালে হাবাস ফিরলেন হাবাসে। আগের দিন প্র্যাকটিস রাখেননি। গুরুত্ব দেন মানসিক প্রস্তুতিকে। এদিন পাঁচ রক্ষণে দল সাজান। শুরুতে বিপক্ষকে মেপে আক্রমণে যাওয়ার ছক কষেছিলেন হাবাস। কিন্তু প্যানাগিওটিস ডিলেমপেরিসের ভুলে অপেক্ষা করতে হয়নি ইস্টবেঙ্গলকে। বাগানকে নিয়ে ছেলেখেলা লাল হলুদের। মোহনবাগানের আত্মসমর্পণের দুটো কারণ।

    এক, ক্লান্তি। দুই,প্যানোসের ভুল স্ট্র্যাটেজি। সেমিফাইনাল খেলতে শিলং যেতে হয় মোহনবাগানকে। ফেরার সময় এক বিমান না পাওয়ায়, পাঁচ দফায় ফিরতে হয়। শেষ গ্রুপ কলকাতায় পৌঁছয় রাত আটটায়। বিশ্রামের কোনও সুযোগ নেই। একদিনের প্র্যাকটিস নামতে হয় ফাইনালে। সবুজ মেরুন ফুটবলারদের শরীরীভাষায় ক্লান্তি স্পষ্ট। মাঠে হেঁটে বেড়ান অনেকেই। খেলায় সেই ঝাঁঝ ছিল না। তবে ইস্টবেঙ্গলকে কোনওভাবে খাটো করা যাবে না। মাঝমাঠ, রক্ষণ নেই। এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে ছন্দে থাকা ফুটবলার সাহালকে প্রথম একাদশে রাখেনি প্যানস। নামান ম্যাকলারেনকে। এই ভুলের খেসারত দিতে হল। মাঝমাঠে জঘন্য জেলকোভিচ। বাগানের মাঝমাঠ বলে কিছু ছিল না। অন্যদিকে, লাল হলুদের মাঝমাঠে অনবদ্য রশিদ। এটাই পার্থক্য গড়ে দিল।

    ম্যাচের ১০ মিনিটে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। রশিদের পাস থেকে ১-০ করেন বিপিন সিং। তার দু'মিনিটের মধ্যে ২-০। জিকসনের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দূরপাল্লার শটে নিজের প্রথম গোল করেন এডমুন্ড। ম্যাচের ২২ মিনিটে তৃতীয় গোল ইস্টবেঙ্গলের। এটাই তাঁর সেরা গোল। রাহুল বেকেকে কাটিয়ে বিশাল কাইতকে পরাস্ত করে গোলে রাখেন এডমুন্ড। তিন গোলে এগিয়ে যাওয়ায় জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে লড়াই ছাড়েনি মোহনবাগান। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে ব্যবধান কমায়। গোল করেন মনবীর। কিন্তু সবুজ মেরুন ম্যাচে ফেরার আগেই ৪-১। হ্যাটট্রিক এডমুন্ডের। রশিদের ফ্রিকিক থেকে জয় গুপ্তর মাইনাস। তেকাঠিতে রাখতে ভুল করেননি। প্রথমার্ধে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যাকলারেন। কিন্তু পুরো আনফিট। পাঁচ গোলের সুযোগ ছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। ম্যাচের ৭২ মিনিটে একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে গোল মিস জেসিনের।
  • Link to this news (আজকাল)