মোহনবাগানকে ধরাশায়ী করে 22 বছর বাদে ডুরান্ড জিতল লাল-হলুদ, হ্য়াটট্রিকে এলিট ক্লাবে এডমুন্ড
eTV Bharat | ২৩ আগস্ট ২০২৬
কলকাতা, 23 অগস্ট: কথায় আছে বড় ম্যাচ নতুন সব তারকার জন্ম দেয় কলকাতা তথা ভারতীয় ফুটবলে ৷ তেমনই রবিবার সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গলেন বড় ম্য়াচের নয়া নায়ক হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠিত করলেন ইস্টবেঙ্গলের এডমুন্ড লালরিনডিকা ৷ এর আগেও বড় ম্য়াচ তথা ডার্বিতে একাধিক গোল ছিল তাঁর নামের পাশে ৷ কিন্তু এদিন অতীতের সবকিছু ছাপিয়ে বড় ম্য়াচে হ্যাটট্রিক করলেন মিজো ফরোয়ার্ড ৷ তাঁর হ্য়াটট্রিকে ডুরান্ড ফাইনালে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট'কে 4-1গোলে পর্যুদস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ৷ সেইসঙ্গে 22 বছর বাদে ডুরান্ড কাপে চ্যাম্পিয়ন হল তারা ৷ এই নিয়ে 17 বার ৷
সূচি এবং যাত্রাপথের ধকল নিয়ে প্রাক-ফাইনাল সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মোহনবাগান কোচ প্য়ানাগিওটিস ডিম্পেরিস ৷ নিজেদের পিছিয়ে রেখেছিলেন গ্রিক কোচ ৷ রবিবার যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গল বুঝিয়ে দিল সত্যিই বোধহয় বেশ খানিকটা পিছিয়ে সবুজ-মেরুন ৷ বহুদিন পর বড় ম্য়াচে এরকম আধিপত্য নিয়ে মোহনবাগানকে দুরমুশ করল লাল-হলুদ ৷ যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তাতে আরও একবার পাঁচ গোল খাওয়ার আতঙ্কে সময় কাটাচ্ছিল সবুজ-মেরুন জনতা ৷ শেষ পর্যন্ত তা না-হলেও মোহনবাগানকে যে সব বিভাগে টেক্কা দিল ইস্টবেঙ্গল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না ৷ অন্যদিকে মাঠে বাইরে মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে প্য়ানাগিওটিস ডিম্পেরিস'কে বোধহয় দশ গোল দিলেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস ৷ সেইসঙ্গে মরশুমের প্রথম ম্য়াচে ডার্বি হারের পর যে সমালোচনা তাঁর দিকে ধেয়ে এসেছিল, তার জবাব কড়ায়-গণ্ডায় দিলেন স্প্যানিশ ভদ্রলোক ৷
ডুরান্ড ফাইনালে এদিন প্রথমার্ধেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের চিত্র ৷ 10 মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে দুই ডিফেন্ডারকে কাট করে বল দেন বিপিন সিং'কে ৷ তিনি জালে বল রেখে 1-0 করেন ৷ জেসিন টিকে'র পরিবর্তে 'ফলস নাইন' হিসেবে ফাইনালে এডমুন্ড'কে ব্যবহার করেন হাবাস ৷ তাতেই বাজিমাত ৷ বিপিনের গোলের পরের মিনিটেই ফের লাল-হলুদ বিস্ফোরণ ৷ বক্সের বাইরে জিকসন সিং'য়ের বাড়ানো বল ধরে মাটিঘেঁষা শটে বিশাল কাইথ'কে পরাস্ত করেন মিজো ফুটবলার ৷ 22 মিনিটে ফের গোল তাঁর ৷ এবার বক্সে দানি রামিরেজ দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বল বাড়ান এডমুন্ড'কে ৷ তিনি বিপক্ষ ডিফেন্ডার রাহুল ভেকে এবং গোলরক্ষক বিশাল কাইথ'কে বোকা বানিয়ে দর্শনীয় গোলে 3-0 করেন ৷ তিন গোলের ধাক্কা সামলে মোহনবাগান ফিরে আসার চেষ্টা করে ৷ সাহাল আব্দুল সামাদ'কে বসিয়ে জেমি ম্যাকলারেন ফাইনালে শুরু থেকে নামিয়ে দিয়েছিলেন ডিম্পেরিস ৷ কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত ব্যুমেরাং হয়ে যায়।
তবে 33 মিনিটে একটি গোল শোধ করে বাগানকে ম্য়াচে ফিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছিলেন মনবীর সিং ৷ কিন্তু ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল এদিন ছিল অন্য মুডে ৷ 44 মিনিটে ফের গোল করে মোহনবাগানের ফিরে আসার রাস্তা কার্যত বন্ধ করে দেয় তারা ৷ এমন কিছু সুযোগ এদিন ম্যাকলারেন মিস করলেন, যা হয়তো ক্লান্তির নামান্তর ৷ তবে এতে ইস্টবেঙ্গলের কৃতিত্ব খাটো হওয়ার নয় ৷ কারণ ঠাসা ক্রীড়াসূচি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন হাবাসও ৷
দ্বিতীয়ার্দে 'পার্ক দ্য বাস' স্ট্র্য়াটেজি নিয়ে রক্ষণে বাগান'কে হুল ফোটাতে দেয়নি লাল-হলুদ ৷ লাল-হলুদের প্রাক্তনী মিগুয়েল ফিগেরা, লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে'দের নামিয়েও কাজ হয়নি ৷ বরং পরিবর্ত হিসেবে নেমে জেসিন টিকে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করায় পঞ্চম গোল না-হওয়ার আফসোস করতে পারে ইস্টবেঙ্গল ৷ সে যাইহোক, প্রথমার্ধের ফলাফল ধরে রেখেই 22 বছর বাদে ডুরান্ড ঘরে তোলে ইস্টবেঙ্গল ৷ গত মরশুমে আইএসএল জয়ের পর এবার মরশুমের প্রথম ট্রফি ইস্টবেঙ্গলের ক্যাবিনেটে ৷ এদিন ইস্টবেঙ্গলের হাতে ট্রফি তুলে দেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ৷