• কলেজ পরিচালন সমিতিতে বিজেপির আধিপত্য, ব্রাত্য ঋত শিবিরের বিধায়করা
    বর্তমান | ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, বোলপুর: রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলির পরিচালন সমিতিতে এবার সম্পূর্ণ গেরুয়া আধিপত্য কায়েম হল। শুক্রবার সদ্য প্রকাশিত উচ্চশিক্ষা দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বীরভূম জেলার কলেজগুলির মাথায় একচেটিয়াভাবে বসানো হয়েছে বিজেপির বিধায়কদের। এতদিন ধরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলত গেরুয়া শিবির, এ যেন তারই পুনরাবৃত্তি হল! তবে, এই বিজ্ঞপ্তি ঘিরে খোদ গেরুয়া শিবিরের নেতাদের মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভও রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, কোনো কোনো বিজেপি বিধায়ক এক সঙ্গে তিন-তিনটি কলেজের সভাপতির চেয়ার পেলেও অনেক ‘শিক্ষিত’ নেতার ভাগ্যে একটি কলেজও জোটেনি! পাশাপাশি, এই রদবদল ঘিরে কিছুটা হতাশ ‘ভাল তৃণমূলের’ নেতারা! ঋত শিবিরে যোগ দিয়েও তৃণমূল বিধায়কদের জুটল না কোনো সম্মানজনক পদ! 

    রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে বীরভূমের মোট ১৬টি সাধারণ ডিগ্রি কলেজের মধ্যে আপাতত ১১টির পরিচালন সমিতির নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা হয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে এই ১১টি কলেজেরই রাশ তুলে দেওয়া হয়েছে জেলার মাত্র পাঁচজন বিজেপি বিধায়কের হাতে। রাজ্য সরকারের বিকাশ ভবন থেকে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সিউড়ির বিধায়ক তথা উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় একাই পেয়েছেন বোলপুর কলেজ, সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজ ও লাভপুর শম্ভুনাথ কলেজের চূড়ান্ত দায়িত্ব। ময়ূরেশ্বরের বিধায়ক তথা রাজ্যের আরেক মন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলকে লোকপাড়া কলেজ এবং মল্লারপুরের তুর্কু হাঁসদা-লাপসা হেমব্রম মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি করা হয়েছে। সাঁইথিয়ার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা পেয়েছেন সাঁইথিয়া অভেদানন্দ ও ইলামবাজারের কবি জয়দেব কলেজ। অন্যদিকে, রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা নলহাটি হীরালাল ভকত ও রামপুরহাট কলেজ এবং দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপকুমার সাহা হেতমপুর কৃষ্ণচন্দ্র ও খয়রাশোল শৈলজানন্দ ফাল্গুনী স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এই তালিকায় আপাতত নাম নেই বোলপুরের পূর্ণীদেবী চৌধুরী গার্লস কলেজ, নানুরের চণ্ডীদাস মহাবিদ্যালয়, মুরারইয়ের কবি নজরুল কলেজ, রাজনগর মহাবিদ্যালয় এবং সিউড়ির বীরভূম মহাবিদ্যালয়ের। তবে বিতর্ক দানা বেঁধেছে লাভপুরের শম্ভুনাথ কলেজকে ঘিরে। লাভপুরের বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ওঝাকে ব্রাত্য রেখেই ওই কলেজে সভাপতি করা হয়েছে সিউড়ির বিধায়ককে। বাকি পাঁচ বিধায়ক নিজ নিজ এলাকার কলেজের দায়িত্ব পেলেও দেবাশিসের এই বঞ্চনা নিয়ে দলের অন্দরেই কানাঘুষো চলছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দেবাশিসবাবুর শিক্ষাগত যোগ্যতা (মাধ্যমিক পাশ) কলেজের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদের সঙ্গে একেবারেই বেমানান। আর সেই কারণেই হয়তো তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সযত্নে দূরে রাখা হয়েছে। যদিও এই বিতর্কে বিধায়কের কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

    আগের তৃণমূল সরকারের আমলে কলেজ পরিচালন সমিতিতে শাসকদলের নেতাদের একাধিপত্য নিয়ে বরাবরই সরব ছিল বিরোধীরা। এখন রাজ্যে পালাবদলের পর সেই একই রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটছে বিজেপিও। যদিও বিজেপির জেলা সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, এতদিন কলেজগুলিতে পড়াশোনার বদলে শুধুই রাজনীতি, দলবাজি আর দুর্নীতি চলেছে। সেই অচলায়তন ভাঙতেই নতুন করে পরিচালন সমিতি গঠন করা হয়েছে। এখন যোগ্য জনপ্রতিনিধিদের হাতে কলেজ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে কলেজগুলিতে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ফিরে আসে।’ জেলার নেতাদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ‘ভালো তৃণমূল’-এ নিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারিগর ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ। অথচ তাঁর নিজের খাসতালুক বোলপুর কলেজও হাতছাড়া হয়ে গেল! সেখানে দায়িত্ব পেলেন সেই জগন্নাথ। চন্দ্রনাথবাবু বলেন, রাজ্য যাঁকে মনে করেছেন, তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)