চোখে-মুখে রাগ প্রকাশ পেলেই পেলে বিক্ষোভকারীরা ‘কনটেন্ট’ পেয়ে যাবে। তাই রাগ দেখানো যাবে না। বিক্ষোভকারীরা নানা ভাবে প্ররোচনা দিতে পারে। কিন্তু কোনও ভাবেই তাঁদের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ানো যাবে না। যন্তর মন্তরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভের পরে এ বার এই মর্মেই দিল্লি পুলিশ সতর্ক করল কেন্দ্রীয় সরকার।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি এই নির্দেশিকাটি দিল্লি পুলিশের অন্তর্গত ১৫টি জেলা, রেল এবং মেট্রো ইউনিটকে পাঠানো হয়েছে। তাতে দিল্লি পুলিশকে বলা হয়েছে, ‘আপনার রাগত মুখই ওঁদের কনটেন্ট। ওঁরা আপনার সঙ্গে লড়াই করছেন না। একটা ফিল্ম তৈরি করছেন যাতে আপনাকে খলনায়কের চরিত্রে বসাতে চান। সেটা হতে দেবেন না।’ সতর্কবার্তায় এ-ও বলা হয়,‘প্রতিবাদকারীরা কাঁদতে পারেন, নিরাপত্তাকর্মীদের পায়ে পড়তে পারেন কিংবা সহানুভূতি ও রাগ হতে পারে, এমন প্রশ্নও করতে পারেন। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীরা কোনও ভাবেই তাঁদের সঙ্গে ঝগড়া করবেন না বা সহমত প্রকাশ করবেন না। কেবল বলুন, আমরা আমাদের কাজ করছি। সহযোগিতা করুন।’
যন্তর মন্তরে ছাত্রবিক্ষোভের সময়ে দেখা গিয়েছে, ছাত্রছাত্রীরা পুলিশকে ফুল দিচ্ছেন। কেউ কেউ দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ডিউটি করা পুলিশকর্মীদের দিকে জলের বোতল এগিয়ে দিচ্ছেন। তার প্রেক্ষিতে বলা হয়েছে, ‘আন্দোলনকারীরা ফুল, মিষ্টি বা জল দিতে এলে তা বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। ক্যামেরা দেখে মোবাইল ঠেলে দেওয়া, জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়া, রাগ দেখানো, কিংবা উস্কানিমূলক গান, নাচ ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্টারে প্রতিক্রিয়া দেওয়া কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।’
মহিলা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কী রকম আচরণ করতে হবে, তা-ও আলাদা করে বলে দেওয়া হয়েছে এসওপি-তে। বলা হয়েছে, ‘কোনও অবস্থাতেই মহিলা বিক্ষোভকারীদের গায়ে হাত তোলা যাবে না। তাঁদের সামলানোর দায়িত্ব কেবল মহিলা পুলিশকর্মীদেরই পালন করতে হবে।’
নির্দেশ, কোনও অবস্থাতেই মহিলা বিক্ষোভকারীদের গায়ে হাত তোলা যাবে না। তাঁদের সামলানোর দায়িত্ব কেবল মহিলা পুলিশকর্মীদেরই পালন করতে হবে। দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ, আন্দোলন চলাকালীন কেউ অসুস্থ বা আহত হলে পুলিশকেই আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এ ছাড়া অ্যাম্বুল্যান্সও প্রস্তুত রাখতে হবে। কম বয়সি বা প্রবীণ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে হাত জোর করে অনুরোধ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা ক্যামেরার সামনে পুলিশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরবে।