আধুনিক প্রযুক্তির হাত ধরে এগোচ্ছে শ্রেণিকক্ষের পঠন-পাঠন, জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন বর্ধমানের এই শিক্ষক
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৪ আগস্ট ২০২৬
বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ পেপার লেস। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পড়ুয়াদের পড়াশোনা করানো হয় এই স্কুলে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই স্কুল নজির গড়েছে। এবার ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল এই স্কুল। কারণ এবার জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। কথা হচ্ছে শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে।
শিক্ষক দিবসে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে জাতীয় পুরস্কার নেবেন পলাশ চৌধুরী। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য-সহ শিক্ষকরা এমন কিছু ব্যবস্থা নিয়েছেন, যা ভারতে প্রথম। কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তারা? এই বিদ্যালয়টি চলে পুরো পেপার লেস পদ্ধতিতে। বিদ্যালয়ের নিজস্ব অ্যাপ রয়েছে। সেই অ্যাপের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সমস্ত কাজ পরিচালনা করা হয়।
বিদ্যালয়ে এআর ও ভিআর (অগমেন্টেড রিয়েলিটি ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি) প্রযুক্তি রয়েছে। এছাড়াও শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজস্ব ব্রেকফাস্ট বা প্রাতঃরাশ প্রকল্প রয়েছে। সেই প্রকল্পের পুরো অর্থই বহন করেন বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা ও প্রধান শিক্ষকের এক বন্ধু। এর জন্য মাসে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়।
প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যালয়ে এই মুহূর্তে শিক্ষক যদি কম থাকে তাহলেও বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন পরিচালনার কোনও সমস্যা হবে না। কারণ শিক্ষকরা তাঁদের ই-কনটেন্ট ও প্রযুক্তি তৈরি করে রেখেছেন।’ জাতীয় পুরস্কার নেওয়ার বিষয়ে পলাশ চৌধুরী বলেন, ‘এই পুরস্কার বিদ্যালয়ের সকলের কাজের স্বীকৃতি।’ পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হওয়ায় প্রধান শিক্ষক অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অতনু হাজরা ও শিক্ষক মৃন্ময় মিশ্রকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁরা স্কুলের উন্নয়নের জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছেন বলে তিনি জানান।
অভিভাবকদের সমান গুরুত্ব দেওয়াও এই স্কুলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশের জন্য অভিভাবকদের ভূমিকার উপরেও পলাশ চৌধুরী জোর দিয়েছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের সাফল্যের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতে স্কুল উদ্যোগী হয়েছে। এআই-এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালারও আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রায় ২১৫ জন অভিভাবক যোগ দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, প্রাতঃরাশ প্রকল্পের জন্য ওই স্কুলের শিক্ষিকা লাবণ্য রায় ও তাঁর বন্ধু চিকিৎসক রাসবিহারী ধোনীকে প্রধান শিক্ষক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তবে এটাই প্রথম নয়। এর আগেও শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ২০১৬ সালে সেরা প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। ২০২২ সালে তিনি শিক্ষারত্ন সম্মান পেয়েছিলেন। এবার তিনি রাষ্ট্রপতির হাত থেকে নেবেন জাতীয় পুরস্কার। তবে এই স্কুলের ঝুলিতেও এর আগে অনেক পুরস্কার প্রাপ্তি হয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে এই স্কুল ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পুরস্কার পেয়ে এসেছে।