স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মোহনবাগানের প্রাক্তন ফুটবলার! রবিবার ডার্বির আগেই চাঞ্চল্যকর ঘটনা বরানগরে। জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে গ্রেপ্তার হয়েছেন মানস দাস। কলকাতা ময়দানে মানস যথেষ্ট পরিচিত নাম। সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে রক্ষণ সামলাতে। খেলেছেন মহামেডান-সহ অন্যান্য নামী ক্লাবেও। সেই ফুটবলারের বিরুদ্ধেই এবার গার্হস্থ্য হিংসা এবং খুনের বিস্ফোরক উঠল।
জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের এক বাসিন্দার সঙ্গে মাসতিনেক আগে বিয়ে হয় মানসের। এটি প্রাক্তন ফুটবলারের দ্বিতীয় বিয়ে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই দু’জনের বনিবনা হচ্ছিল না বলে দাবি স্থানীয়দের। শনিবার মানসের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাঁর স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ। তারপর থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় বরানগরের অশোকগড় এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে স্ত্রীর উপর নির্যাতন চালাতেন মানস। তিনিই স্ত্রীকে খুন করেছেন, এমনটাই দাবি করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ উঠছে, পুলিশ চুপিসাড়ে দেহ সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিল। তার প্রতিবাদে সরব হন স্থানীয়রা। দেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় একঘণ্টা ধরে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের বচসা চলে। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। স্থানীয়দের তোপ, বধূর মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পরেও মানসকে আটক করেনি পুলিশ। সেটার প্রতিবাদ করতে গিয়েই পুলিশি লাঠিচার্জের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। তবে শেষ পর্যন্ত গ্রে
প্তার করা হয়েছে প্রাক্তন ফুটবলারকে।
মানস দাস টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা ফুটবলার। ২০০২ ব্যাচের সদস্য ছিলেন তিনি। তারপর টালিগঞ্জ অগ্রগামী, সাদার্ন সমিতির মতো ক্লাবে খেলেছেন। ডিফেন্ডার এবং মিডফিল্ডার দুই ভূমিকাতেই খেলতে দেখা গিয়েছে মানসকে। ২০০৫ সালে তিনি যোগ দেন মোহনবাগানে। দু’বছর খেলেছেন সবুজ-মেরুন জার্সিতে। এছাড়াও প্রয়াগ ইউনাইটেড, মহিন্দ্রার মতো দলেও খেলেছেন মানস। রবিবার সকালে বরানগর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে তাঁকে।