কলকাতার পর রাজ্যের একাধিক স্কুলে মিড ডে মিল দেবে ইসকন, তালিকায় নন্দীগ্রামও
প্রতিদিন | ২৪ আগস্ট ২০২৬
কলকাতার পর এবার বাংলার একাধিক জেলার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের খাবার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হল ইসকনকে। রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় ইসকনকে। সেই মতো শহর এবং শহরতলির একাধিক স্কুলে মিড ডে মিল দেওয়া হচ্ছে। তবে এর পরিধি যে আগামিদিনে বাড়বে সেই ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতো এবার থেকে উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, পুরুলিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েকটি এলাকায় মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হল অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনকে। যেটি কিনা ইসকনেরই সংস্থা।
ইতিমধ্যে এই বিষয়ে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের তরফে বিস্তারিত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। যেখানে বিধাননগর, দমদম, রাজারহাট-নিউ টাউন, হাওড়া, পুরুলিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ১ এবং নন্দীগ্রাম ২ ব্লকে থাকা একাধিক স্কুল রয়েছে। তবে কত স্কুলে এই মিড ডে মিল সরবরাহ ইসকন করবে তা স্পষ্ট করা হয়নি ওই বিজ্ঞপ্তিতে। তবে ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব সংস্থার তরফে পাঠানো হয়েছিল। সমস্ত দিক বিবেচনা করে তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বিষয়টি সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কলকাতার সমস্ত স্কুলে ২ লাখ ৪৫ হাজার ছাত্রছাত্রীকে সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার দিচ্ছে ইসকন। যদিও প্রথমে মিড ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। পড়ুয়াদের কেন ডিম থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিরোধীরা। এমনকী এই বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলাও দায়ের হয়। প্রশ্ন ওঠে, মিড ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া হলে এই রান্নার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই কাজ হারাবেন। যদিও পরবর্তীকালে সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, আলাদা করে সপ্তাহে দুই দিন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া হবে। ইসকন যেমন নিরামিষ খাবার প্রদান করছে তেমনই প্রদান করবে। এমনকী কোনও রাঁধুনি কাজ হারাবেন না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।