• স্বামীর পেট কেটে অন্ত্র বের করে ব্যাগে ভরছিলেন স্ত্রী, বাড়ির মালিককে দেখেই ছাদ থেকে ঝাঁপ, তার পরে...
    এই সময় | ২৪ আগস্ট ২০২৬
  • হাত-পা ছড়ানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে রাজেশ (৪০) নামে এক যুবকের মৃতদেহ। চারদিক রক্তে ভেসে যাচ্ছে। পেটে বিশাল বড় ক্ষত। অভিযোগ, পেটের ভিতর থেকে অন্ত্র বের করে একটি ব্যাগে ঢোকাচ্ছিলেন তাঁর স্ত্রী বিমলা দেবী। সেই সময় বাড়ির মালিক তাঁকে দেখে ফেলেন। আতঙ্কে ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন বিমলা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রের পেহোয়া রোডের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে বিমলাই তাঁর স্বামীকে খুন করেছিলেন কি না, করলে কেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    রাজেশ উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরের বাসিন্দা। এক বছর আগে চলে আসেন হরিয়ানায়। পেহোয়া রোডে স্ত্রী বিমলাকে নিয়ে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি। কাজ করতেন স্থানীয় একটি জল সরবরাহকারী সংস্থায়। শনিবার বিকেলে স্ত্রীর সঙ্গে ছাদে গিয়েছিলেন রাজেশ। আচমকাই চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়। কী হয়েছে দেখতে ছুটে যান বাড়ির মালিক রিঙ্কু। কিন্তু ছাদে ঘাবড়ে যান তিনি। রিঙ্কুর দাবি, তিনি দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন রাজেশ। পেটে কেটে ফাঁক হয়ে রয়েছে। অভিযোগ, ওই অবস্থায় বিমলা রাজেশের পেট থেকে বেরিয়ে আসা অন্ত্র একটি ব্যাগে ঢোকাচ্ছিলেন বিমলা।

    রিঙ্কুকে দেখে চমকে ওঠেন অভিযুক্ত। তাঁর দাবি, ব্যাগ ফেলে রেখে আচমকাই ছুটে গিয়েছাদ থেকে ঝাঁপ মারেন বিমলা। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন রিঙ্কু। দোতলার ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম বিমলাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তে রাজেশের শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। জানা গিয়েছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর পেটে গভীর ক্ষত করা হয়েছিল। তার জেরেই অন্ত্র বেরিয়ে আসে।

    কিন্তু এখানেই শেষ নয়। বরং রহস্য আরও গভীর। রাজেশের লিভারের একটি বড় অংশ এবং ডান কিডনি উধাও বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। কে রাজেশের পেট কাটল, কী ভাবে এমন গভীর ক্ষত হলো, কিডনি-লিভার কে সরাল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন মাপের তিনটি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেন্সিক দলও।

    বাড়ির মালিকের দাবি, বিমলা ঝাড়ফুঁক করতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হতো বলেও অভিযোগ তাঁর। তবে খুনের আসল কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর আগে রাজেশ ও বিমলার বিয়ে হয়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনও সন্তান হয়নি। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, আগের কোনও বিবাদ এবং ঘটনার আগে ঠিক কী হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমলার বয়ান, ফরেন্সিক প্রমাণ এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই তদন্ত চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    প্রশ্ন: কোথায় এই ঘটনা ঘটেছে?

    উত্তর: হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রের পেহোয়া রোডে একটি ভাড়া বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

    প্রশ্ন: মৃত ব্যক্তির নাম কী?

    উত্তর: মৃতের নাম রাজেশ। তাঁর বয়স ৪০ বছর। তিনি উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরের বাসিন্দা ছিলেন।

    প্রশ্ন: রাজেশকে খুনের অভিযোগ কার বিরুদ্ধে?

    উত্তর: তাঁর স্ত্রী বিমলা দেবীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছে।

    প্রশ্ন: কীভাবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে?

    উত্তর: বাড়ির মালিক রিঙ্কু চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ছাদে যান। তাঁর দাবি, সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় রাজেশকে পড়ে থাকতে দেখেন। বিমলাকে তাঁর শরীর থেকে বেরিয়ে আসা অন্ত্র একটি ব্যাগে ভরতে দেখেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

    প্রশ্ন: বিমলা এখন কোথায়?

    উত্তর: বাড়ির মালিককে দেখে বিমলা ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে পুলিশ বয়ান নেবে।

    প্রশ্ন: ময়নাতদন্তে কী জানা গিয়েছে?

    উত্তর: রাজেশের শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর পেটে গভীর ক্ষত হয়েছিল বলে ময়নাতদন্তে জানা গিয়েছে। তাঁর লিভারের একটি বড় অংশ এবং ডান কিডনি পাওয়া যায়নি বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

    প্রশ্ন: ঘটনাস্থল থেকে কী উদ্ধার হয়েছে?

    উত্তর: বিভিন্ন মাপের তিনটি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনাও সংগ্রহ করেছে।

    প্রশ্ন: খুনের কারণ কি জানা গিয়েছে?

    উত্তর: এখনও নয়। বাড়ির মালিকের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হত। বিমলা ঝাড়ফুঁকের কাজও করতেন বলে দাবি তাঁর। তবে খুনের সঠিক কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।

    প্রশ্ন: তদন্ত কীভাবে এগোচ্ছে?

    উত্তর: বিমলার বয়ান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)