সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি
দেশের স্বাধীনতার পরে এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখল করতে পেরেছে বিজেপি৷ দলের এই দুরন্ত সাফল্যকে হাতিয়ার করেই এ বার বিরোধী শাসিত দু’টি রাজ্য পাঞ্জাব এবং হিমাচল প্রদেশেও ক্ষমতা দখলের জন্য ঝাঁপাবে দল— শনিবার বিজেপির নবগঠিত জাতীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত৷ দলীয় সূত্রের দাবি, নতুন জাতীয় কমিটির সদস্যদের সামনে শনিবার রাতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন সাফ জানিয়েছেন, আম আদমি পার্টি (আপ)-এর হাতে থাকা পাঞ্জাব এবং কংগ্রেসের হাতে থাকা হিমাচলে আগামী বছরের বিধানসভা ভোট জিততে বাংলাকেই ‘রোল মডেল’ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে৷ এই দু’রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই ‘অল আউট’ নীতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে বিজেপির নেতা–নেত্রীদের৷
পঞ্চনদের তীরে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি ইতিমধ্যেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে৷ পুরোনো জোটসঙ্গী শিরোমণি অকালি দলের সঙ্গে আরও একবার জোট গড়ার কাজ শুরু করেছে গেরুয়া শিবির৷ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি নাগাদ নির্ধারিত ১১৭ আসন বিশিষ্ট পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এবং শিরোমণি অকালি দলের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি৷ দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী মাসে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে অকালি দলের বৈঠকেই আসন রফা হতে পারে৷ বিজেপির শীর্ষ স্তর মনে করছে, আপ–কে পাঞ্জাব থেকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গেলে অকালি দলই হতে পারে তুরুপের তাস৷ বিজেপি–অকালি জোট হলে আপ বা কংগ্রেস—কেউই পাঞ্জাবের ভোট ময়দানে বাড়তি সুবিধে পাবে না৷ ভোট কাটাকাটিতে বিজেপি এবং শিরোমণি অকালি দলের প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
এর আগে যখন বিজেপি এবং অকালি আলাদা ভাবে নির্বাচনে লড়েছিল, তখন বিজেপি রাজ্যের ১৩টি লোকসভা আসনের কোনোটিতেই জয়ী না হলেও ১৮.৫৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। অন্যদিকে, অকালি ১৩.৪২ শতাংশ ভোট পায় এবং একটি আসনে জয়লাভ করে। সব মিলিয়ে, দল দুটি মোট ভোটের প্রায় ৩২ শতাংশ নিজেদের দখলে রেখেছিল। কিছু বাড়তি ভোট যোগ হলে এই জোট ক্ষমতাসীন আপ-এর জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, বিজেপি নেতাদের মতে, আপ বর্তমানে সরকার-বিরোধী জনরোষের মুখে পড়ছে।
সূত্রের খবর, বাংলায় বিধানসভা ভোটে ভালো ফলের জন্য যে ভাবে দলীয় সংগঠন মজবুত করতে যৌথ উদ্যোগে ঝাঁপিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য নেতৃত্ব, সেই ফর্মুলাতেই পাঞ্জাবের জন্য রণকৌশল তৈরি করছে দলের শীর্ষ স্তর৷ দলীয় সূত্রের দাবি, নীতিন নবীন নিজে চাইছেন বাংলা ফর্মুলাতেই পাঞ্জাব জয় সুনিশ্চিত করা হোক৷ ৬৮টি বিধানসভা আসন বিশিষ্ট হিমাচলের ভোটের জন্যও ঘুঁটি সাজানোর কথা ভেবেছেন বিজেপির শীর্ষ স্তর৷ হিমাচলের বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা আগামী বছরের নভেম্বরে৷