ক্যানাডায় খালিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ফাঁস হওয়া একটি অডিয়ো রেকর্ডিংয়ে আমেরিকায় গা-ঢাকা দিয়ে থাকা গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রারকে নিজ্জর হত্যার পিছনে তার এবং তার দলের ভূমিকা স্বীকার করতে শোনা যাচ্ছে। অডিয়োয় ব্রারের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে অন্য এক খালিস্তানি জঙ্গি পরমজিৎ সিং পাম্মাকে। নিজ্জর হত্যাকে কেন্দ্র করে ভারত ও ক্যানাডার কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়েছিল।
ফাঁস হওয়া অডিয়োয় ব্রার দাবি করেছে, তরুণদের মাদক পাচারে উৎসাহিত করা একটি চক্রকে সমর্থন করত নিজ্জর। বিশেষ করে ১৬-১৭ বছরের কিশোরদের মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহার এবং তাদের ব্ল্যাকমেল করে পুলিশের ‘ইনফর্মার’ হিসেবে কাজে লাগানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ব্রারের দাবি, নিজ্জরের সমর্থন এই ধরনের ব্যক্তিদের শক্তিশালী করছিল এবং প্রয়োজনমতো তাদের ব্যবহার করত সে। সেই কারণেই নিজ্জরকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্রারকে বলতে শোনা যায়, ‘এই কারণেই আমায় ও আমার দলকে নিজ্জরকে হত্যা করতে হয়েছিল, কারণ, এই লোকেরা মাদক বিক্রির জন্য তরুণদের ব্যবহার করছিল। ভালো হোক বা মন্দ, প্রত্যেককেই তার কৃতকর্মের পরিণতি ভোগ করতে হয়।’ অডিয়োয় ব্রার আরও দাবি করেছে, নিজ্জরের সঙ্গে বেআইনি অস্ত্র কারবারের যোগও ছিল।
৪৫ বছর বয়সি হরদীপ সিং নিজ্জরকে ২০২৩ সালের ১৮ জুন ক্যানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারেতে গুরু নানক শিখ গুরুদ্বারের পার্কিং লটে গুলি ছুড়ে হত্যা করা হয়। তদন্ত অনুযায়ী, হামলায় ছয় জনকে কাজে লাগানো হয়েছিল এবং দু’টি গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল। ঘটনাস্থলের CCTV ফুটেজেও হামলার আগে দু'টি গাড়িকে পাশাপাশি চলতে দেখা গিয়েছিল।
সূত্রের খবর,নিজ্জর ছিলেন খালিস্তান টাইগার ফোর্সের (KTF) প্রধান। তাঁর হত্যাকাণ্ডের পর ভারত-ক্যানাডা সম্পর্কে তীব্র কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়। তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এই খুনে ভারতীয় এজেন্টদের সম্ভাব্য যোগের অভিযোগ তুলেছিলেন। ভারত অবশ্য সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়।
ফাঁস হওয়া অডিয়োয় গোল্ডি ব্রারের স্বীকারোক্তি নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অপরাধী চক্র ও গ্যাং-সংঘাতের তত্ত্বকে নতুন করে সামনে আনছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্যানাডার তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েও গ্যাং রাইভালরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়েছিল। এমনকী নিজ্জরকে হত্যার জন্য হিটম্যান খোঁজার আলোচনা একটি এনক্রিপ্টেড অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছিল।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি একটি লিকড অডিয়ো। তবে অডিয়োয় শোনা যাওয়া কণ্ঠস্বর গোল্ডি ব্রারের বলে গোয়েন্দা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে টাইমস অফ ইন্ডিয়া-এর রিপোর্টে উল্লেখ। কিন্তু শুধুমাত্র এই বক্তব্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য প্রমাণ করা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় আরও তথ্য সামনে আসার অপেক্ষা রয়েছে।
১. হরদীপ সিং নিজ্জরকে কবে হত্যা করা হয়েছিল?
২০২৩ সালের ১৮ জুন ক্যানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারেতে গুরু নানক শিখ গুরুদ্বারের পার্কিং লটে হরদীপ সিং নিজ্জরকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
২. গোল্ডি ব্রার কে?
গোল্ডি ব্রার একজন ভারতীয় গ্যাংস্টার, যার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি বর্তমানে আমেরিকায় গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
৩. গোল্ডি ব্রার কি নিজ্জর হত্যার দায় স্বীকার করেছে?
ফাঁস হওয়া একটি অডিয়োয় গোল্ডি ব্রার নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে তার এবং তার দলের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই অডিয়োর বক্তব্যের ভিত্তিতে হত্যার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নিশ্চিত হয়েছে বলা যায় না।
৪. নিজ্জরকে কেন খুন করা হয়েছিল বলে অডিয়োয় দাবি করা হয়েছে?
অডিয়োয় ব্রার দাবি করেছে, নিজ্জর তরুণদের মাদক পাচারের কাজে ব্যবহার করা একটি চক্রকে সমর্থন করত। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ তুলে এই কারণেই নিজ্জরকে হত্যা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
৫. নিজ্জরের বিরুদ্ধে আর কী অভিযোগ করা হয়েছে?
ফাঁস হওয়া অডিয়োয় গোল্ডি ব্রার নিজ্জরের সঙ্গে বেআইনি অস্ত্র কারবারের যোগ থাকারও দাবি করেছে।
৬. নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত-ক্যানাডা সম্পর্কের কী যোগ?
নিজ্জর হত্যার পর ভারত ও ক্যানাডার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র টানাপড়েন তৈরি হয়। তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় এজেন্টদের সম্ভাব্য যোগের অভিযোগ তুলেছিলেন। ভারত সেই অভিযোগ খারিজ করে দেয়।
৭. নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে কতজন হামলাকারী ছিল?
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ছয়জন এবং দুটি গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা যায়। হামলার আগে দুটি গাড়িকে পাশাপাশি চলতেও CCTV ফুটেজে দেখা গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৮. ফাঁস হওয়া অডিয়ো কি নিজ্জর হত্যার তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে?
অডিয়োয় করা দাবি অপরাধী চক্র ও গ্যাং-রাইভালরির তত্ত্বকে নতুন করে আলোচনায় আনতে পারে। তবে অডিয়োর বক্তব্যের সত্যতা, প্রেক্ষাপট এবং এর আইনি গুরুত্ব তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।