এই সময়, মালদা: 'অন্নপূর্ণা' কাণ্ডে আত্মঘাতী হওয়া মহিলার স্বামীকেই অবশেষে গ্রেপ্তার করল গাজোল থানার পুলিশ।অনিতা খাতুন (৩২)-এর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পরে তাঁর এক আত্মীয় থেকে শুরু করে স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য দাবি করেছিলেন, গত তিন মাস অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা না মেলায় মহিলা আত্মঘাতী হয়েছেন। কিন্তু এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃতের স্বামী ইনজ়ামামুল হককে কাঠগড়ায় দাঁড় করাল পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পরে তারা জানিয়েছে, নিজের অপরাধ আড়াল করতে অন্নপূর্ণা ভাতা না পাওয়ার মনগড়া গল্প তৈরি করেছিলেন মহিলার স্বামী, যেটা আত্মীয়-পরিজন থেকে পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের মধ্যে রটিয়ে দেওয়া হয়।
মৃতা তরুণীর এক ভাই আনিসুর আলমের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইনজামামুলকে ঘটনার দিন রাতেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার ধৃতকে মালদা আদালতে পেশ করা হলে তাঁকে ছ'দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃতের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনা, বধূ নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার সকালে গাজোল থানার করকচ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাচাহার গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন অনিতা। মৃতার বাবার বাড়ি গাজোলের ইচাহার এলাকায়। এই আত্মহত্যার ঘটনার পর মৃতের এক দেওর সামিরুল রহমান এবং করকচ গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূল সদস্য মোসারেকুল আনোয়ার অভিযোগ করেছিলেন, গত তিন মাস ধরে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের টাকা না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে আত্মহত্যা করেন অনিতা। অভাবের সংসারে তিন হাজার টাকার মূল্য অনেক। আশেপাশের পরিবারের মহিলারা এই প্রকল্পের টাকা পেলেও বঞ্চিত ছিলেন অনিতা। স্বামীকে আবেদনপত্রে ভুলভাল করার জন্য দোষারোপ করে নাকি আত্মহত্যা করেন তরুণী। তাঁর দেহ কবরস্থ করার পর আচমকাই রবিবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং-এর পক্ষ থেকে মৃত মহিলার স্বামী ইনজ়ামামুলকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ইনজ়ামামুলের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন ধৃতই তাঁর স্ত্রীর বাবার বাড়ির লোকেদের ফোন করেই আত্মহত্যার ঘটনার কথা জানিয়েছিল। পুলিশের এই অভিযোগের বিষয়ে অবশ্য ইনজ়ামামুলের শ্বশুরবাড়ির পরিবারে লোকেরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। যাঁরা অনিতার মৃত্যুতে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা না পাওয়ার দাবি করেছিলেন,তাঁরা রবিবার নতুন করে আর কোনও মন্তব্য করেননি। গাজোল থানা জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ধৃতকে পুলিশ জেরা করে জানতে চাইছে, খুনের পিছনে মোটিভ কী ছিল।