অভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, কাটোয়া
চিনির দাম বাড়ছে, তবুও আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন ভাগীরথী পাড়ের চাষিরা। কাটোয়া মহকুমায় পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও চিনি শিল্পের দরজা বন্ধ৷ কেতুগ্রামের ইক্ষু ক্রয়কেন্দ্র ২০ বছর ধরে বন্ধ! ভগ্নপ্রায় অবস্থা অফিস ঘর। রাজ্য সরকারের অধীনে রাজ্য চিনি শিল্প উন্নয়ন নিগমের আওতায় থাকা ইক্ষু গ্রহণকেন্দ্রের জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকার এই শিল্পের প্রতি নজর দিক।
একটা সময়ে কাটোয়া-কেতুগ্রাম জুড়ে প্রচুর আখ উৎপাদন হতো৷ রাজ্য জুড়ে সেই সময়ে চিনি শিল্পে কার্যত বিপ্লব এসেছিল। নদিয়ার পলাশি, বীরভূমের আমোদপুরে গড়ে উঠেছিল অনেক সুগার মিল৷ সেই সময়ে রাজ্য সরকার রাজ্য চিনি শিল্প উন্নয়ন নিগম গঠন করে মিল পরিচালনার ভার দেয় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে৷ কেতুগ্রাম-২ ব্লকের সীতাহাটি পঞ্চায়েতের উদ্ধারণপুরে গড়ে উঠেছিল একটি ইক্ষু ক্রয়কেন্দ্র৷ বীরভূমের আমোদপুর চিনিকল ইউনিটের অধীনে কাজ হতো এখানে। মূল ইউনিট আমোদপুরর থাকলেও আখ কেনার জন্য কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল পলাশি–সহ বেশ কিছু জায়গায়৷ ভাগীরথীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় আখ চাষের রমরমা ছিল৷
জলপথে পরিবহণের সুবিধার জন্য নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে অফিস তৈরি করে চাষিদের থেকে আখ কেনা হতো। সেই আখ আমোদপুরে চিনিকলে যেত৷ ইক্ষু ক্রয়কেন্দ্রে বহু মানুষ কাজ করতেন৷ কেতুগ্রামের ইক্ষু ক্রয়কেন্দ্রে ক্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করা বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত কর্মী শ্যামল মণ্ডল বলছিলেন, ‘এখানকার প্রায় সাত–আট জন কাজ করতেন। আশেপাশের চার–পাঁচটি অঞ্চলের চাষিদের থেকে আখ কেনা হতো৷ নতুগ্রাম, সুজাপুর, কাঁধখালি, কমলাবাড়ি, জুরানপুর সেন্টার থেকেও আখ আসত৷ ২০০৫ থেকে ইক্ষু গ্রহণকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়৷ তার আগে কেতুগ্রামে প্রায় ৬০০০ মেট্রিক টন আখ সংগ্রহ করা হয়েছিল ইক্ষু গ্রহণকেন্দ্রে৷’
এক একর ২৭ শতক জায়গায় গড়ে উঠেছিল উদ্ধারণপুর কেন্দ্র৷ বর্তমানে তার অফিসঘরের চেহারা কঙ্কালসার৷ ঘরের দরজা–জানলা উধাও৷ কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, কাটোয়া মহকুমার পাঁচটি ব্লকে কমবেশি আখের চাষ হতো আগে৷ তবে কাটোয়া-১, ২, কেতুগ্রাম-২ ব্লকে আখের চাষ বেশি হতো৷ কয়েক বছর আগেও ৬০০ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে৷ চলতি বছরে তা কমে ১৭০ হেক্টরে নেমেছে৷ ভাগীরথীর পাড় লাগোয়া কাটোয়া মহকুমা জুড়ে প্রতি বছর ছয় শতাংশ করে চাষি এই চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
কেতুগ্রামের আখচাষি অনন্ত কর্মকার, সুজাপুরের চাষি মনসুর আলি শেখ বললেন, ‘আগে চিনির কারখানা ছিল। সেখানে আখ বিক্রি করতে পারতাম৷ এখন তো সর্বত্র আখের কারখানা বন্ধ৷ কোথায় বিক্রি করব? কারখানা হলে আবার আমরা চাষের দিকে নজর দেবো৷’