এই সময়, পাঁশকুড়া: গ্রামে গাড়ি ঢোকার মতো রাস্তা নেই। মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে ভরসা খাটিয়া কিংবা টোটো। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না-থাকায় বড় কোনও চিকিৎসকও গ্রামে আসতে চান না। গ্রামের মুমূর্ষু মানুষজনকে বাঁচাতে পাঁশকুড়ার দক্ষিণ বড়হৎ গ্রামের নিউ তরুণ সঙ্ঘ নামে একটি ক্লাব বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং নেবুলাইজ়ার পরিষেবা চালু করেছে। ওই পরিষেবা দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে তিন জন বিশেষজ্ঞকেও। শুধুমাত্র দক্ষিণ বড়হৎ নয়, পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গ্রামের মুমূর্ষু রোগীদের প্রাণ বাঁচাচ্ছে ওই সঙ্ঘের সদস্যরা।
পাঁশকুড়া কেশাপাট গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর গোপালপুর গ্রামের বছর ৮৮-এর ঊষারানি মাইতি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। বাড়িতেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা। শনিবার রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বৃদ্ধার। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। খবর পেয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে মাইতি বাড়িতে ছুটে যান তপন বেরা। অক্সিজেন দেওয়ার পরে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন ঊষারানি। তপনকে অক্সিজেন সিলিন্ডারটি দিয়েছে ওই সঙ্ঘ। ঊষারানির ছেলে অচিন্ত্য মাইতি বলেন, ‘মায়ের শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার পেয়ে গিয়েছিলাম। এ যাত্রায় মাকে ফিরে পেলাম। যাঁরা এই পরিষেবা চালু করেছেন তাঁদের অসংখ্য ধন্যবাদ।’
কেশাপাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দক্ষিণ বড়হৎ নিউ তরুণ সঙ্ঘ ৪১তম শিব-দুর্গা পুজো উপলক্ষে গত ফেব্রুয়ারিতে নিখরচায় চালু করে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও নেবুলাইজার পরিষেবা। সঙ্ঘের উপদেষ্টা, শিক্ষক কার্তিক সামন্তের উদ্যোগে দক্ষিণ বড়হৎ, যোগীবাড়, গোপীমোহনপুর, গোঁসাইবেড় ও উত্তর গোপালপুরের মতো গ্রামগুলিতে শুরু হয় এই পরিষেবা। গ্রামের মানুষজনকে আপৎকালীন চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসেন তপন বেরা, নিতাই সেনাপতি ও মহাদেব মাইতি। ওই তিন জনের সাম্মানিকের ব্যবস্থা করেন কার্তিক সামন্ত। গত ছ’মাসে ওই এলাকার একাধিক রোগী আপৎকালীন গ্রামীণ চিকিৎসা পেয়ে প্রাণে বেঁচেছেন। অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করা থেকে শুরু করে নেবুলাইজ়ার মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণের যাবতীয় খরচ বহন করেন কার্তিক।
গ্রামীণ এলাকায় বিনামূল্যে এ ধরনের আপৎকালীন চিকিৎসা পরিষেবার উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। গোপীমোহনপুর গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক শীতলচন্দ্র ভৌমিক বলেন, ‘আমাদের গ্রামের প্রতিটি জায়গায় গাড়ি ঢোকার মতো রাস্তা নেই। রাতবিরেতেও কারও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সাইকেলে করে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে হাজির হন বিশেষজ্ঞরা। ওই সঙ্ঘের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’
কার্তিক বলেন, ‘ক্ষুদ্র সামর্থ্যের মধ্যে চেষ্টা করেছি সকলকে নিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের পাশে দাঁড়াতে। গত কয়েক মাসে একাধিক মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বেঁচেছে আমাদের দেওয়া অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং নেবুলাইজ়ার মেশিনে। এটা আমাদের কাছে অনেক বড় পাওয়া। এই কাজটা আমরা আগামীতেও চালিয়ে যাব।’