• গঙ্গাসাগরে কপিলমুনির আশ্রম বাঁচাতে বিচ নারিশমেন্ট স্কিম রাজ্যের, কী এই প্ল্যান ?
    আজ তক | ২৪ আগস্ট ২০২৬
  • ২০২৩ সালে কপিলমুনি মন্দিরের সামনে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে টেট্রাপড বসানো হয়। লক্ষ্য ছিল ঢেউয়ের শক্তি ভেঙে উপকূল রক্ষা করা। তার পরেও  তীব্র ভাঙনের মুখে বিপন্ন হতে বসেছে গঙ্গাসাগরের কপিল মুনির মন্দিরের সামনের সাগরের পাড়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অমাবস্যা কিংবা পূর্ণিমার কোটালে নদী-বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয় । বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয় । মেরামতির নামে অস্থায়ীভাবে মাটি ফেলে কাজ করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই সেই বাঁধ আবার ভেঙে যায় । ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ করেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে  গঙ্গাসাগরের সমুদ্র সৈকতের হাল ফেরাতে নড়েচড়ে বসছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। 

    প্রসঙ্গত, গঙ্গাসাগরের সমুদ্র সৈকতের হাল ফেরাতে আগের সরকারের আমলেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেভাবে কোনেও পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে দানা বাধেনি। কিন্তু প্রচেষ্টা চলেছিল ধারাবাহিকভাবে। এবার রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। নয়া সরকারও কপিলমুনি মন্দিরের কাছে সৈকতের ভাঙন রোধে উদ্যোগ নিচ্ছে। নেদারল্যান্ডস এবং আইআইটি মাদ্রাজের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে বিচ নারিশমেন্ট স্কিম তৈরি করতে চাইছে রাজ্য সরকার। 

    সাগর বিধানসভার বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল জানিয়েছেন, বর্তমানে এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় এস্টিমেট তৈরির কাজ চলছে। সেচ দফতরের ছাড়পত্র পাওয়ার পর দ্রুত টেন্ডার ও কাজের প্রক্রিয়া শুরু হবে। দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গাসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্রের আচরণ আগ্রাসী। সে সূত্রে বাঁধ ভাঙার সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে চরম উদ্বেগে স্থানীয় বাসিন্দারা। সমস্যায় পড়েন পুণ্যার্থীরাও। সমস্যার বৈজ্ঞানিক ও স্থায়ী সমাধানের জন্য নেদারল্যান্ডস ও আইআইটি মাদ্রাজের বিশেষজ্ঞদের দল এই এলাকায় গিয়ে ভূ-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেছে। একাধিকবার ঘুরে দেখেছেন এলাকা। দলটি তারপর বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সে রিপোর্টকে ভিত্তি করে এবার কাজ করতে চাইছে রাজ্য সরকার। 

    প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ঢেউয়ের ঝাপটা রোধ করাই সবথেকে বড়ো চ্যালেঞ্জ। কারণ দুর্যোগের জন্যই ভাঙন বেশি হয়। তাই সৈকতে আছড়ে পড়ার আগেই ঢেউ ভাঙার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা হচ্ছে। তাছাড়া সমুদ্র সৈকতের বালিতে নিয়মিত পলি না জমার কারণেও ভাঙন রোখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এই সমস্যা দূর করতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বিশেষ উন্নত মানের বালি নিয়ে আসার পরিকল্পনাও আছে বলে জানা গিয়েছে। সমুদ্র বাঁধের নীচে ও নির্দিষ্ট সৈকত অংশে তা ফেলা হবে যা প্রাকৃতিকভাবে পলি ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং বাঁধের আয়ু ও স্থায়িত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আসন্ন সাগর মেলার পর পুরোদমে কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক।

    প্রসঙ্গত, চলতি অগাস্টেই  গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’র মর্যাদা দেওয়া থেকে শুরু করে সুন্দরবনের ভাঙন রোধ, নতুন রেলপথ নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ককে জাতীয় সড়কে উন্নীত করা - এইসব দাবি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার।  শাহকে দেওয়া চার পাতার একটি স্মারকলিপিতে মোট ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছিলেন মথুরাপুরের সাংসদ। তাঁর দাবি ছিল, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে মথুরাপুরের পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ উপকূলবর্তী এলাকার যোগাযোগ, পর্যটন এবং আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামোর উন্নতি হবে। ওই চিঠিতে বাপি জানিয়েছিলেন, মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে প্রতি বছর আয়োজিত গঙ্গাসাগর মেলা দেশের অন্যতম প্রাচীন এবং বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী, সাধু এবং পর্যটক এই মেলায় যোগ দেন। ভারতীয় আধ্যাত্মিকতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত এই মেলার ঐতিহাসিক এবং জাতীয় গুরুত্বও অপরিসীম। সাংসদের বক্তব্য, বিষয়টি তিনি আগেই সংসদে তুলেছেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাছেও আবেদন জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সেই প্রস্তাব যাতে দ্রুত অনুমোদন পায়, তার জন্য অমিত শাহের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সাংসদ। তাঁর মতে, জাতীয় মেলার স্বীকৃতি মিললে গঙ্গাসাগরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নথিবদ্ধকরণ, লোকশিল্পের প্রসার, প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো নির্মাণে কেন্দ্রীয় সহায়তা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।


     
  • Link to this news (আজ তক)