• মহারাষ্ট্রের খাদে সপরিবারে মৃত্যুর ‘ভিলেন’ আইফোন নয়! নেপথ্যে কোন রহস্য, ইঙ্গিত তরুণের মাসির
    প্রতিদিন | ২৪ আগস্ট ২০২৬
  • মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে পাহাড় থেকে লাফিয়ে তরুণের আত্মহননের ঘটনার পর কিছুটা সময় কাটলেও এখনও এই ঘটনা নিয়ে চর্চা চলছেই। আইফোনের ইএমআই দিতে না পারাতেই নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন ওই তরুণ, এমনটাই দাবি। আর তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়েই খাদ থেকে পড়ে মৃত্যু তাঁর মা-বাবারও! কিন্তু এবার কুণাল চাঁদগুড়ের মাসি দাবি করলেন, যা বলা হচ্ছে তা ঠিক নয়। সবটা না জেনে খামোখা গুজব ছড়ানো থেকে সকলকে নিরস্ত থাকারই ‘পরামর্শ’ দিচ্ছেন তিনি।

    সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় পল্লবী পাটিল নাম্নী ওই মহিলাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আপনারা এই ভিডিওগুলো ছড়ানোর মাধ্যমে আপনার মতামত প্রকাশ করেছেন ঠিকই, কিন্তু আসলে কিছুই জানেন না। আপনারা আমাদের চেনেন না এবং এর পেছনের আসল সত্য সম্পর্কেও আপনাদের কোনও ধারণা নেই। অথচ আপনারা ক্রমাগত মিথ্যা বয়ান ছড়িয়েই চলেছেন। আপনারা কি বুঝতে পারছেন না, এই ভিডিওগুলোর কারণে আমার বাবা-মা কতটা কষ্ট পাচ্ছেন?” পল্লবীর দাবি, তাঁর মায়ের বয়স ৭৫। ঘটনার অভিঘাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নিজস্ব শোক সামলে মা’কে ঠিক রাখাটাই তাঁদের বড় চ্যালেঞ্জ, দাবি তাঁর। সেই সঙ্গেই পল্লবী দাবি করছেন, তাঁর দিদি, জামাইবাবু ও দিদির ছেলের মৃত্যু নিয়ে যে গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। কিন্তু যদি আইফোনের কারণে ওই আত্মহত্যা না হয়ে থাকে তাহলে আসল কারণ কী?

    জানা গিয়েছে, পল্লবীর দিদি সঙ্গীতা ছিলেন একজন গৃহবধূ। অন্যদিকে জামাইবাবু মুরলীধর একজন ট্রাক চালক। বছর ছয়েক আগে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁদের বড় ছেলের। এরপর থেকেই তাঁদের মধ্যে গোলমালের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই দু’জনে আলাদা থাকতে শুরু করেন। মুরলীধরন প্রায়ই বাড়ি থাকতেন না। দিন দুয়েক আগে তিনি ফেরার পরই নতুন করে গোলমাল সৃষ্টি হয়। এমনকী মারামারি পর্যন্তও গড়ায় বিষয়টি। পল্লবীর ইঙ্গিত, ওই গার্হস্থ্য অশান্তিই ছিল সেদিনের মৃত্যুমিছিলের নেপথ্যে। এদিকে পুলিশ জানতে পেরেছে গত বছরও কুণাল পাহাড়ি খাদের ধারে পৌঁছে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। কাজেই আইফোন নয়, অন্য আরও জটিল কারণেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গিয়েছিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)