২০৩৪ নয়, ২০২৯-এই এক দেশ এক ভোট? মেয়াদ কমবে বাংলা-সহ বহু রাজ্যের বিধানসভার!
প্রতিদিন | ২৪ আগস্ট ২০২৬
‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি কীভাবে কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে নানা মহলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে যৌথ সংসদীয় কমিটি। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা এখনও বাকি। ফলে কমিটির সুপারিশ মেনে ওই পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা এখনও অনেক দূর। কিন্তু তার মধ্যেই জল্পনা ছড়িয়েছে, পরিকল্পিত ২০৩৪-এর সময়সীমা বদলে ২০২৯ সালেই ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি কার্যকর করার কথা ভাবছে এনডিএ। যে সমস্ত রাজ্যে ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে বিধানসভা ভেঙে দিয়ে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই বিধানসভা ভোটের পথে যেতে পারে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট, জল্পনা এমনই। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
এনডিএ শাসিত ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ১১টিতে আগামী দু’বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আর চারটি রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম ও ওড়িশায় ইতিমধ্যেই লোকসভার সঙ্গে একযোগে ভোট হয় এবং এগুলো বর্তমানে এনডিএ-র শাসনাধীন। যদি জোট সরকার এই রাজ্যগুলোতে আগামী দু’বছর ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, তাহলে ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যেই ওই ২২টি বিধানসভাকে ভেঙে দেওয়ার পথ খুলে যেতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শে বিধানসভা ভেঙে দিতে পারেন এবং তারপর ছ’মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। সংসদের যৌথ কমিটি ‘ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন’ বিল নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে। কমিটি বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়ক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও শিল্পমহলের সঙ্গে কথা বলছে। আশা করা হচ্ছে, এই বছরের শীতকালীন অধিবেশনেই কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেবে। কমিটির চেয়ারম্যান পিপি চৌধুরী বলেছেন, এই বিষয়টি মূলত এনডিএ-র মুখ্যমন্ত্রীদের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে এবং কমিটির সরাসরি ক্ষমতার বাইরে। সূত্রের দাবি, যদি ২০২৯ সালেই লোকসভার সঙ্গে এই ২২টি বিধানসভার নির্বাচন একসঙ্গে হয়, তাহলে বাংলা-সহ একাধিক রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে বলছেন যে একযোগে নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ১৯৫২ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ভারতে লোকসভা ও বিধানসভার নির্বাচন একসঙ্গেই হত এবং সেটা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী ছিল না। বর্তমান বিলগুলো অনুযায়ী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর ‘অ্যাপয়েন্টেড ডেট’ নির্ধারণ করে পরবর্তী চক্রে ২০৩৪ সালে একযোগে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে।