প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তার অপব্যবহারও। ভারচুয়াল জগতে এখন মাথাব্যথার কারণ ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ। আর সেই ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হতে হয় সাধারণ মানুষকে। বর্তমানে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ সাইবার অপরাধে নয়া সংযোজন। যা রীতিমতো চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে তদন্তকারীদের কপালে। এবার সাইবার অপরাধীদের ধরতে ‘অপারেশন প্রহার’ চালালো রাজ্য পুলিশ। বিশেষ এই অভিযানে গত সাত দিনে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে ১০৭ জন সাইবার জালিয়াত। শুধু তাই নয়, এই ক’দিনেই প্রায় ৯৩ কোটি টাকার সাইবার জালিয়াতির তদন্ত গোয়েন্দারা করেছেন বলেও খবর।
ধীরে ধীরে ‘সাইবার হটস্পটে’র কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বাংলা। ভুয়ো কল সেন্টার খুলে প্রতারণা থেকে শুরু করে একের পর এক সাইবার অপরাধের খবর সামনে আসে। এরপরেই ‘অপারেশন প্রহার’-এর আয়োজন করে রাজ্য পুলিশের সাইবার ক্রাইম উইং। কলকাতা-সহ সারা রাজ্যজুড়ে সাতদিন ধরে চলে এই অভিযান। বিশেষ এই অভিযানের শুরুতেই সাইবার অপরাধীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেন রাজ্যের গোয়েন্দারা। এরপর সাইবার অপরাধের ‘হটস্পট’গুলিকে শনান্ত করা হয়। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, রাজ্যে মোট ৬৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। তারই ভিত্তিতে কলকাতা-সহ সারা রাজ্যজুড়ে তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে ১০৭ জন সাইবার অপরাধী। মোট ৯২.৬৪৪ কোটি টাকার সাইবার জালিয়াতির ভিত্তিতে তদন্ত হয়।
তদন্তে ধরা পড়ে তিনটি ভুয়া কল সেন্টার। মূলত মিউল বা বেআইনিভাবে ভাড়া নেওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সন্দেহজনক ব্যাঙ্কের শাখা, এটিএম ও নগদ টাকা তোলার পয়েন্টগুলির উপর নজর, ভুয়া সিম যে জায়গাগুলি থেকে বিক্রি তথা সরবরাহ করা হচ্ছে ও যে জায়গা থেকে সাইবার অপরাধের নেটওয়ার্ক চালানো হচ্ছে, সেই জায়গাগুলির উপর নজরদারি চালানো হয়। এই পদ্ধতিতে রাজ্যের সংগঠিত সাইবার অপরাধের উপর আঘাত হানা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।