দপ্তরে ঢুকতেই সটান চেয়ার না বসে তার উপরে জড়ানো সাদা ধবধবে তোয়ালেটা এক ঝটকায় সরিয়ে দিলেন। পাশে দাঁড়ানো কর্মী থেকে শুরু করে ঘরে থাকা সব অফিসার হতবাক। এ কী কাণ্ড?
সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব ভাইরাল হয়েছে। আর এর নেপথ্যের নায়ককে এখন প্রায় সারা দেশের অনেকেই চেনেন। মহারাষ্ট্রের তুকারাম মুন্ধের এই ভিডিয়ো কার্যত হইচই ফেলে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FDA) প্রধান তুকারাম মুন্ধে একটি সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দিতে এসে নিজের চেয়ারে বসার আগে তিনি চেয়ারের উপর রাখা সাদা তোয়ালেটি সরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু একটি চেয়ারে সাদা তোয়ালে সরিয়ে দেওয়ায় কী এমন বিশেষত্ব? কেনই বা এত চর্চায় রয়েছে এই ভিডিয়ো?
আসলে এর নেপথ্যে রয়েছে এক কলোনিয়াল ইতিহাস। ব্রিটিশ আমলে উচ্চ পদস্থ সরকারি আধিকারিকদের জন্য সাধারণত সাদা তোয়ালে জড়ানো চেয়ার ব্যবহার করা হতো। এর পিছনে ছিল দু’টি কারণ।
ইতিহাসবিদ ও প্রাক্তন অফিসারদের একাংশের মতে, সেই সময়ে আধিকারিকদের অনেক দূর-দূরান্তে যাতায়াত করতে হতো। গরম ও ধুলোয় দীর্ঘ সফরের পর চেয়ারে বসার আগে শরীরের ঘাম লেগে যাতে চেয়ারের গদি নষ্ট না হয়ে যায়,তার জন্য জড়ানো হতো এই সাদা তোয়ালে। সহজে ধুয়ে ফেলা বা বদলে ফেলা যেত বলেও এর ব্যবহার সুবিধাজনক ছিল। পাশাপাশি সাদা তোয়ালে ঘরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতাকে আরও বাড়িয়ে তুলত।
তবে বাইরে থেকে দেখলে ঘটনাটি নিছক পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার জন্য হলেও সরকারি দপ্তরে প্রচলিত দীর্ঘদিনের এই প্রথার পিছনে রয়েছে ক্ষমতা প্রদর্শের এক অলিখিত নিয়ম। পাশাপাশি, সরকারি দপ্তরগুলিতে উচ্চপদস্থ আধিকারিকের চেয়ারে সাদা তোয়ালে রাখার রীতির পিছনে কিন্তু নেই কোনও সরকারি নিয়ম। তবে অনেক প্রাক্তন আধিকারিকের ধারনা, এটি মর্যাদার প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হয়।
সাদা তোয়ালে কী ভাবে হয়ে উঠল মর্যাদার প্রতীক?
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারিক প্রয়োজনের সাদা তোয়ালে ধীরে ধীরে একটি প্রতীকী অর্থও পেতে শুরু করে। অনেক সরকারি দপ্তরে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জন্য তোয়ালে ঢাকা চেয়ার রাখা হতো। তুলনায় জুনিয়র কর্মীদের জন্য এমন ব্যবস্থা থাকত না।
কখনও কোনও গুরুত্বপূর্ণ অতিথি বা বিশিষ্ট আধিকারিকের জন্যও থাকে সাদা তোয়ালে জড়ানো চেয়ার। ফলে ধীরে ধীরে সাদা তোয়ালে সরকারি দপ্তরে ক্ষমতা, পদমর্যাদা ও ‘VIP সংস্কৃতি’র সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
মুন্ধের পদক্ষেপের তাৎপর্য
আর এই প্রেক্ষাপটেই মুন্ধের তোয়ালে সরিয়ে বসার ঘটনাকে অনেকে VIP সংস্কৃতি প্রত্যাখ্যানের প্রতীক হিসেবেই দেখছেন। প্রাক্তন আমলা গুরদীপ সিং সাপ্পালও বিষয়টি নিয়ে বলেছেন ঔপনিবেশিক শাসন চলে গেলেও কিছু পুরনো প্রতীক এখনও রয়ে গিয়েছে। তাই হয়ত তুকারাম মুন্ধে তা বর্জন করতে চাইছেন।
উল্লেখ্য, বম্বে হাইকোর্টের ক্যান্টিনে ‘রেড’ করা থেকে শুরু মহারাষ্ট্র জুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে তুকারাম মুন্ধের কঠোর পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই ভাইরাল। আর এই আবহে তাঁর চেয়ারে বসার আগে সাদা তোয়ালে সরানোর কাজ আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।