সোমবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। মিটিং-এর অনুমতি না পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, ‘বিজেপির নেতারা যদি মনে করেন, আমাকে মিটিংয়ের পারমিশন দেবেন না, তাই আমি সন্ন্যাস গ্রহণ করব... আমি সন্ন্যাসী নই। বিজেপিকে সন্ন্যাসে না পাঠানো পর্যন্ত আমাদের লড়াই থামবে না।’ এর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই বেশ কিছু ঘোষণা করতে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল নেত্রীকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, ‘আপনি, বিকেলবেলায় ফেসবুকেই থাকুন। রাস্তায় যাতে বেরোতে না পারেন, তার ব্যবস্থা করব।’
অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে শুরু করে হকার উচ্ছেদ— একাধিক বিষয় নিয়ে নতুন সরকারের সমালোচনা করেন মমতা। মমতার বক্তব্যে উঠে আসে সাম্প্রতিক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর থেকে কলকাতার ফুটপাথবাসীকে রাজ্যের মন্ত্রীর ধমকের প্রসঙ্গ। মমতা বলেন, ‘আপনাদের মানুষ চার মাসেই বুঝে নিয়েছে। কে কেমন, বুঝে গিয়েছে। আয়নাতে নিজেদের মুখ দেখুন।’
পাল্টা মমতা জমানার দুর্নীতির কথা মনে করিয়ে দেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ শুধু উন্নয়নের জন্য ভোট দেয়নি, দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দেওয়ার জন্যও ভোট দিয়েছে।’ গত সরকারের আমলে যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁদের সম্পত্তি বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি ছাড়া গত কয়েকদিনে নতুন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেননি মমতা। এর আগে বারুইপুরে এক নাবালিকা ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও কালীঘাটের বাড়ির সামনে বাড়তি পুলিশ প্রহরা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলা হয়। কয়েক সপ্তাহ আগে হালিশহরে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলেন মমতা। পুলিশের লকআপে তাঁকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল। সেখানে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। সেই প্রসঙ্গ তুলে এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর খোঁচা, ‘বারুইপুরে গোল খেয়েছেন, হালিশহরেও চেষ্টা করেছিলেন, সেখানেও গোল খেয়েছেন।’