• বিধান মার্কেটে মেট্রোর কাজ শুরুর অনুমতি, দোকানদারদের কথা মাথায় রেখে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের
    এই সময় | ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • ধর্মতলার বিধানচন্দ্র রায় মার্কেট এলাকায় মেট্রো প্রকল্পের কাজ শুরুর অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আগামী সাত দিনের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে।’ একই সঙ্গে বিধান মার্কেটের দোকানদারদের আবেদন ও স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

    জোকা-বিবাদী বাগ মেট্রো প্রকল্পের জন্য বিধানচন্দ্র রায় মার্কেট এলাকায় কাজ চলবে। কিন্তু তার জন্য দোকানদারদের সাময়িক ভাবে সরানো প্রয়োজন। সেই মতো ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়। তার পরেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিধানচন্দ্র রায় মার্কেট স্টল হোল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং আরও কয়েক জন দোকানদার।

    ১৯৫৪ সালে গড়ে ওঠে ধর্মতলায় বিধানচন্দ্র রায় মার্কেট। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, মেট্রো প্রকল্পের কাজের জন্য তাঁদের সাময়িক ভাবে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু একাধিক বৈঠকে পরেও পুরোনো জায়গায় তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে লিখিত নথি বা মউ হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে অনিশ্চয়তায় ভুগতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যেই মেট্রোর তরফে উচ্ছেদের নোটিস জারি হওয়ায় সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা।

    ব্যবসায়ীদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও ফিরদৌস শামিম। তাঁদের অভিযোগ, পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে লিখিত আশ্বাস বা মউ ছাড়াই গত ৩০ জুলাই নোটিস জারি করেছে মেট্রো। সেই নোটিসে ২৬ অগস্টের মধ্যে সমস্ত স্টল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ফের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।

    মেট্রো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, জোকা-ধর্মতলা মেট্রো সম্প্রসারণের জন্য ময়দান মার্কেটের বর্তমান অংশটি ভেঙে ফেলা প্রয়োজন। তবে ব্যবসায়ীদের স্থায়ী ভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। তাঁদের কাছাকাছি একটি বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরিত করা হবে। সেখানে জল, বিদ্যুৎ, শৌচালয়-সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিষেবা থাকবে। নতুন জায়গায় ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছে মেট্রো।

    বিচারপতি অবশ্য বিষয়টিকে শুধুমাত্র একটি বাজার সরানোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখতে চাননি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, উন্নয়নের স্বার্থে যাঁরা সরে যেতে রাজি হয়েছেন, তাঁদের জীবিকা ও মর্যাদা সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিচারপতি জানান, আপাতত ওই এলাকা থেকে দোকানদারদের অস্থায়ী ভাবে সরানো যাবে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পরে তাঁদের আবার পুরোনো জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। মেট্রো প্রকল্পের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে এই বিষয়ে লিখিত ভাবে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    অন্য দিকে, কলকাতা পুরসভাও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত কাজের অনুমতি দিয়েছে। বিটি রোড বরাবর ৪৮ ইঞ্চি ব্যাসের পুরোনো কাস্ট আয়রন (C.I.) জল সরবরাহের পাইপলাইন বন্ধ করে তার বদলে ৭২ ইঞ্চি ব্যাসের নতুন পাইপলাইন বসানোর কথা জানিয়েছে পুরসভা।

    এই নতুন পাইপলাইনটি পলতা ইন্ডিয়ান গভর্নমেন্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (IGWTP) থেকে টালা পাম্পিং স্টেশন পর্যন্ত বসানো হবে। একই এলাকায় ব্যারাকপুর–বারানগর মেট্রো করিডর বা পিঙ্ক লাইনের কাজও চলবে। তবে পুরোনো জল সরবরাহ পরিকাঠামোর যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সে জন্য নির্দিষ্ট শর্ত ও সতর্কতা মেনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেট্রো প্রকল্পের এই কাজের জন্য রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)-কে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) দিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

    ১. বিধান মার্কেটে কী কাজ হবে?

    জোকা-বিবাদী বাগ মেট্রো প্রকল্পের কাজ হবে। এর জন্য মার্কেট এলাকার কিছু অংশ খালি করতে হবে।

    ২. দোকানদারদের কি উচ্ছেদ করা হচ্ছে?

    মেট্রোর কাজের জন্য তাঁদের অস্থায়ী ভাবে সরানো যাবে বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট। তবে কাজ শেষ হলে পুরনো জায়গায় তাঁদের ফিরিয়ে দিতে হবে।

    ৩. দোকানদাররা কেন আদালতে গিয়েছিলেন?

    মেট্রো প্রকল্পের জন্য তাঁদের সরানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এর পরেই বিধানচন্দ্র রায় মার্কেট স্টল হোল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং কয়েক জন দোকানদার হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।

    ৪. নতুন জল পাইপলাইন কোথায় বসবে?

    পলতা ইন্ডিয়ান গভর্নমেন্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে টালা পাম্পিং স্টেশন পর্যন্ত বিটি রোড বরাবর নতুন ৭২ ইঞ্চি পাইপলাইন বসানো হবে।

    ৫. পুরনো পাইপলাইনের কী হবে?

    বিটি রোডের ৪৮ ইঞ্চি ব্যাসের পুরনো কাস্ট আয়রন পাইপলাইন বন্ধ করে বিচ্ছিন্ন করা হবে। নতুন পাইপ বসানোর সময় পুরনো জল সরবরাহ পরিকাঠামো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য নির্দিষ্ট সতর্কতা মেনে কাজ করতে হবে।

  • Link to this news (এই সময়)