নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা থাকেন এখানে। রাজধানীর বুকে ক্ষমতার কেন্দ্র বলা হয় লুটিয়েন্স দিল্লির এই বাংলোগুলিকে। সেই বাংলোগুলিতে এখন বয়সের ছাপ পড়েছে। এক একটি বাংলোর বয়স প্রায় একশো বছর হতে চলল। সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণের খরচ দিন দিন বাড়ছে। ২০১৪-১৫ সালে মন্ত্রীদের বাংলোগুলির রক্ষণাবেক্ষণের খরচ যেখানে ছিল ২৭ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা। ২০২৫-২৬ সালে তাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের আরটিআই আবেদনের প্রেক্ষিতে এই তথ্য সামনে আসার পরেই দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি এবং সিজেপি একযোগে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছে। তাদের প্রশ্ন, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকার মতো সমস্যায় ভুগছে দেশ। এই সমস্যাগুলিকে লঘু করে সরকার মন্ত্রীদের আবাস রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দেয় কোন যুক্তিতে?
সোমবার এক্স হ্যান্ডলে সিজেপি লিখেছে, ‘বিলাসবহুল বাড়ি মেরামতি বন্ধ করে স্কুলগুলির রক্ষণাবেক্ষণ করা হোক।’ এরপরেই অন্য একটি পোস্টে সিজেপি জানিয়েছে, ‘৯২ কোটি টাকায় ১০টি নতুন আন্তর্জাতিক মানের সরকারি স্কুল তৈরি করা যায়। সেই উদ্যোগটাই চোখে পড়ছে না।’ কেন্দ্রের এই খরচ নিয়ে সরব কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনেত। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘২০১৪-১৫ সালে খরচ ছিল ২৭ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা। ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ প্রায় তিনগুণ খরচ বেড়েছে। জনগণ এখন মূল্যবৃদ্ধি এবং বেকারত্বের মতো সমস্যায় বিপর্যস্ত। তবে এসব নিয়ে আর কে ভাবে?’ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় বাসভবন সংস্কার নিয়ে প্রায়ই কেজরিওয়ালকে নিশানা করত বিজেপি। লুটিয়েন্স বাংলোর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ সামনে আসার পরেই সংবাদমাধ্যমকে নিশানা করেছেন দলের নেতা সোমনাথ ভারতী। বলেছেন, ‘গোদি মিডিয়ায় আলোচনাই দেখছি না।’