নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: ভারত-নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কি ইমিগ্রেশন থেকে আফগানিস্তানের নাগরিক সহ এক ভারতীয় যুবককে গ্রেপ্তার করেছে খড়িবাড়ি থানা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম আবদুল্লাহ খান ও শংকর বণিক। প্রথমজন আফগানিস্তানের বাসিন্দা। শংকরের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগণার বিধাননগরে।
ধৃত আফগান নাগরিক আবদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে হাওড়ার শিবপুরের শীলবস্তিতে বসবাস করছিল। ২০১৮ সাল থেকে শিবপুরের ৮ নম্বর শীলবস্তি লেনের একটি আবাসনের ঘরে থাকতে শুরু করেছিল সে। সেখানেই থাকত আরও এক আফগান নাগরিক নিয়ামত খান। সোমবার বিকেলে আবদুল্লাহর ঘরে গিয়ে দেখা যায়, দরজায় তালা ঝুলছে। আবাসনের এক রাঁধুনি জানান, গত এক-দেড় মাস ধরে আবদুল্লাহ বাড়িতে নেই। তবে নিয়ামত ওই ঘরে থাকে। তাই প্রতিদিন সেখানে রান্না করতে আসেন তিনি। এদিন আবদুল্লাহর ফ্ল্যাটে গিয়ে কেয়ারটেকারের সঙ্গে কথা বলে শিবপুর থানার পুলিশ।
এদিকে, খড়িবাড়ি থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্দেহজনক দুই যুবক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে এলে তাদের জেরা করা হয়। আবদুল্লাহের কাছ থেকে ভারতীয় আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাংকের পাশবই, ড্রাইভিং লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এনিয়ে পুলিশের তদন্তকারী এক আধিকারিক বলেন, ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের তরফে ইতিমধ্যে আবদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার জারি করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে থাকার সুবাদে টাকার বিনিময়ে ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে নিয়েছিল আবদুল্লাহ। তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বিধাননগরের দত্তাবাদের বাসিন্দা শংকরের। জিজ্ঞাসাবাদে ওই আফগান নাগরিক ভারতীয় যুবককে বন্ধু হিসাবে পরিচয় দিয়েছে। রবিবার ওই দু’জন নেপাল যাওয়ার উদ্দেশে পানিট্যাঙ্কি সীমান্তে আসে। পরে ইমিগ্রেশন অফিসে নথিপত্র যাচাইয়ের সময় বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। তাতেই পুরো ঘটনার হদিশ মেলে। এরপর ওই দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে নথিপত্র জালিয়াতি, প্রতারণা, ইমিগ্রেশন ও ফরেনার্স অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই ঘটনার পিছনে জাল ভারতীয় নথি তৈরি চক্রের কোনো যোগ রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খড়িবাড়ি থানার এক শীর্ষ অফিসার জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।