• ঘাটাল ব্লকে ক্রমেই বাড়ছে টিবি রোগীর সংখ্যা, উদ্বেগ
    বর্তমান | ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল ব্লক ও সংলগ্ন এলাকায় ক্রমশ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে টিবি বা যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে না যাওয়ার প্রবণতাই এই রোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ বলে স্বাস্থ্য প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। ঘাটাল টিবি ইউনিটের সিনিয়র টিবি ট্রিটমেন্ট সুপারভাইজার প্রদ্যুৎ সানকী জানিয়েছেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের মাধ্যমেও এই রোগ ব্যাপকভাবে ছড়াচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছর ধরে গোটা জেলার পাশাপাশি ঘাটাল টিবি ইউনিটেও যক্ষ্মা আক্রান্তের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী। 

    শুধু প্রদ্যুৎবাবু নন। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে পাওয়া তথ্যতেও একই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, ২০২৪ সালে সমগ্র জেলায় টিবি রোগীর সংখ্যা ছিল ৪,৩০৮ জন।  ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৫১৮ জনে। অন্যদিকে, ঘাটাল টিবি ইউনিটের অধীনে রয়েছে ঘাটাল ব্লক, ঘাটাল পুরসভা এবং খড়ার পুরসভা। এই ইউনিটে ২০২৪ সালে মোট টিবি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২১০ জন। ২০২৫ সালে তা সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ২১২ জনে। কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ইতিমধ্যেই ১৩০ জন নতুন টিবি রোগীর সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে ঘাটাল পুরসভা এলাকায় ২৫ জন এবং খড়ার পুরসভায় সাতজন আক্রান্ত হয়েছেন। 

    স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে মৃত্যুর পরিসংখ্যানে। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ১২ জন টিবি রোগীর মৃত্যু হয়েছে ঘাটাল ইউনিটে। এছাড়া, সাতজন রোগীর ক্ষেত্রে টিবি এবং এইচআইভি উভয় সংক্রমণই ধরা পড়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, টিবি একটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে কফ পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে এবং ওষুধের ব্যবস্থা রয়েছে। ঘাটাল হাসপাতালে সিবি-ন্যাট মেশিনের মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তিতে বিনামূল্যে কফ পরীক্ষার সুবিধাও মিলছে। তা সত্ত্বেও মানুষ সচেতন হচ্ছেন না। অনেকেই সামান্য কাশি বা জ্বর হলে সরকারি হাসপাতালে না গিয়ে হাতুড়ে চিকিৎসকদের কাছ থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাচ্ছেন। এর ফলে রোগের প্রাথমিক স্তরে সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। পরে রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করলে তাঁরা হাসপাতালে আসছেন। ততদিনে রোগীর শরীর সাধারণ ওষুধ প্রতিরোধক বা ‘ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট’ হয়ে পড়ছে, যা সারিয়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন।সিনিয়র টিবি ট্রিটমেন্ট সুপারভাইজার আরও জানান, আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। সরকারের তরফ থেকে রোগীদের পুষ্টিভাতা হিসেবে প্রতি মাসে হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হলেও, অনেক সময় তা পৌঁছতে দেরি হয়। তাই স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে স্থানীয় মেলা কমিটি, ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, তাঁরা যেন এই রোগীদের দত্তক নিয়ে অন্তত ছ’মাসের জন্য ডিম, সয়াবিন, ডাল, তেলের মতো পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
  • Link to this news (বর্তমান)