নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: মদ্যপানের প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হতে হল নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিংয়ের আপ্ত সহায়ক শেখর চৌধুরীকে (৩০)। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি ভরতি ছিলেন ইএম বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। রবিবার গভীর রাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই উত্তাল হয়ে ওঠে নোয়াপাড়া। এই ঘটনায় নোয়াপাড়া থানার পুলিশ এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের গাড়ুলিয়ায় শেখর চৌধুরীর বাড়ির পাশে একটি ক্লাবঘরে কয়েকজন যুবক মদ্যপান করছিল। ওই অবস্থায় তারা চিৎকার-চেঁচামেচি, গালিগালাজ করায় শেখরবাবু বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে ওই যুবকদের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। তারপর মদ্যপ যুবকরা আচমকা তাঁকে মারধর শুরু করে। ইট দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয় শেখরের মুখ ও মাথা। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি লুটিয়ে পড়েন রাস্তায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিং ও তাঁর ছেলে আদিত্য সিং। প্রথমে জখম শেখরকে বারাকপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল ভরতি করা হয়। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রবিবার গভীর রাতে সেখানে মারা যান শেখর। পুলিশ যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে, তারা হল বিকি চৌধুরী, আমান চৌধুরী ও পিন্টু চৌধুরী। তাদের বিরুদ্ধে নোয়াপাড়া থানায় নিষিদ্ধ মাদক বিক্রি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখর চৌধুরী গারুলিয়া পুরসভা এলাকায় মা, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। এলাকায় বিভিন্ন সেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবার সকালেই ওই বাড়িতে যান স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়ার দাবি জানান। প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিং বলেছেন, শেখর অত্যন্ত ভালো ছেলে ছিল। বহু বছর ধরেই আমাদের সঙ্গে ওর যোগাযোগ। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না।