রাস্তা-নর্দমায় আবর্জনা ফেললেই জরিমানা, বিয়ের অনুষ্ঠানও জানাতে হবে পঞ্চায়েতকে
বর্তমান | ২৫ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: গ্রামীণ এলাকায় সাফাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের ক্ষেত্রে এবার নাগরিকদের জন্য জরিমানা চালু করছে রাজ্য। রাস্তাঘাট বা নর্দমায় আবর্জনা ফেললেই জরিমানা করা হবে। পাশাপাশি, আবর্জনা সংগ্রহকারীদের সঙ্গে অসহযোগিতা করার অভিযোগ উঠলেও জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম জরিমানা ধার্য করা করা হয়েছে ৫০০ টাকা। একই ‘অপরাধ’ দ্বিতীয়বার করা সহ একাধিক ধারায় বাড়তি জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই হুগলির সব পঞ্চায়েতে এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে প্রচারের পাশাপাশি নির্দেশিকা কার্যকর করতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাফাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের দায় নিশ্চিত করতেই জরিমানার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হুগলির মগরা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিক বলেন, আমাদের কাছে নতুন নির্দেশিকা এসেছে। তাতে সাফাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু নতুন পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। হুগলি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, শুধু সরকারের সদিচ্ছায় সব কাজ করা সম্ভব নয়। নাগরিকদের দায়িত্ব নিতে হবে। উন্নত জীবনযাত্রার জন্য তা আবশ্যক। পরিচ্ছন্ন রাস্তা নোংরা করা, নর্দমায় আবর্জনা ফেলার মতো ঘটনায় জরিমানার কথা বলা হয়েছে। ওইসব ঘটনা না ঘটালেই জরিমানা হবে না।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুলাই মাসে পঞ্চায়েত আইনে নতুন কিছু বিষয় সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সাফাই নিয়ে কড়াকড়ি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাস্তাঘাটে বা নর্দমায় আবর্জনা ফেলা, সাফাই কর্মীকে আবর্জনা না দেওয়ার মতো বিষয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠান ও উৎসবকেও জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১০০ জনের বেশি লোক নিয়ে খাবারদাবারের আয়োজন করা হলে আগাম পঞ্চায়েতকে জানাতে হবে। বিয়েবাড়ি বা বড়ো কোনো অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও পঞ্চায়েতকে জানাতে হবে। ওই সব অনুষ্ঠানে আবর্জনার সঠিক ব্যবস্থাপনা না করলে দু’হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
একই অনিয়ম কেউ দ্বিতীয়বার করছেন কি না, তা নজরদারি করতে বলা হয়েছে সাফাই কর্মীদের। গ্রামীণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অভিজ্ঞদের একাংশের দাবি, গ্রামীণ সাফাই ও বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা হুগলিতে খুব একটা উন্নত নয়। সঠিক পরিকাঠামো গড়ার পরে বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা বেশি কার্যকর হত।