• শহরতলিজুড়ে তোলাবাজি-মারধর, বিজেপিতে ‘বিচ্যুতি’!
    বর্তমান | ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বারুইপুর ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে বটে, কিন্তু শুনছে কে! অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে ডামাডোলের আবহে রবিবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ‘কিছু বিচ্যুতি’ স্বীকার করে নিয়েছিলেন। তবে কেবল সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে নয়, দলের নীচুতলার নেতাকর্মীদের ‘বিচ্যুতি’ও যে ক্রমশ প্রকট হচ্ছে, সোমবার দুই ২৪ পরগনার একাধিক ঘটনায় তা ফের সামনে এল! 

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের পিয়ালিতে বিচিত্রা বারুই নামে এক মহিলা তাঁর আত্মীয়ের বাড়ি দখলমুক্ত করার জন্য স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ওই কাজের জন্য তাঁর থেকে লক্ষাধিক টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পিয়ালির বিজেপি মণ্ডল সভাপতি সুরেশ বৈদ্য ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। বিচিত্রাদেবীর দাবি, বাড়িটি দখলমুক্ত করতে তিনি সুরেশবাবুর কাছে গেলে তিনি ঋজু দাস ও বিশ্বজিৎ অধিকারী নামে দু’জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ওই দু’জন দেড় লক্ষ টাকা চান তাঁর কাছে। ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও কোনো কাজ হয়নি বলে দাবি বিচিত্রাদেবীর। বিষয়টি তিনি স্থানীয় ক্লাবকে জানালে হইচই পড়ে যায়। তখন বিচিত্রাদেবীর দোকানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মাকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন তাঁর মেয়ে। ঘটনায় বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যদিও সুরেশবাবু সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বিচিত্রাদেবীর বিরুদ্ধে তিনি মানহানির মামলা করেছেন। 

    অনামিকা হালদার নামে পিয়ালির আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা কাটমানি চেয়েছেন বিজেপির স্থানীয় কর্মী বিজু দাস ও বিশ্বজিৎ অধিকারী। তিনি ৮ হাজার টাকা ওই দু’জনের হাতে তুলে দেওয়ার পর আরও টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তিনি তখন বারুইপুর থানায় অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই অভিযুক্তরা বাড়ি এসে তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে মারধর করে বলে অভিযোগ। প্রতিক্রিয়ার জন্য ওই বিজেপি কর্মীদের ফোন করা হলে তাঁদের মোবাইল সুইচড অফ পাওয়া গিয়েছে। দলের যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোতদার বলেন, ‘অভিযোগ শুনেছি। কিন্তু তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।’ 

    একইভাবে হাড়োয়ায় বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদে সোমবার রীতিমতো ঝাঁটা হাতে বিক্ষোভে নামেন হাড়োয়ার গোপালপুর ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের মুন্সীঘেরি এলাকার আদিবাসী মহিলারা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এলাকায় ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করে কৃষিজমির মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি নেতা। অভিযোগের তির বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সহসভাপতি রাজেন্দ্র সাহা এবং হাড়োয়ার এক মণ্ডল সভাপতি রজতবরণ সাহার দিকে। তাঁদের মদতে এলাকার কয়েকজন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে তোলাবাজি চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করলে রাতের অন্ধকারে শূন্যে গুলি চালিয়ে, কখনও বোমাবাজি করে মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। বিজেপি নেতা রাজেন্দ্র সাহার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে আরেক বিজেপি নেতা হেমন্ততপন হালদার বলেন, ‘অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)