• একটা জলের বোতলেই বাজিমাত, অ্যাসিড ভেবে চম্পট ডাকাতদের!
    এই সময় | ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, বাঁকুড়া: অ্যাসিড ছোড়ার ভয় দেখাতেই খেল খতম! ভুয়ো পুলিশ সেজে হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক চন্দ্রশেখর দাসের বাড়িতে ঢুকে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েও শেষপর্যন্ত লেজ গুটিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। ডাকাতির চেষ্টা রুখে দিলেন পরিবারের সদস্যরাই। তবে পালানোর সময়ে পিছু ধাওয়া করা চিকিৎসক-পুত্রকে লক্ষ্য করে তারা এক রাউন্ড গুলি চালায়। রবিবার ভরসন্ধ্যায় এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের তুঁতবাড়ি এলাকা। বিষ্ণুপুরের এসডিপিও অঞ্জলি সুগা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে শহরের বিভিন্ন রাস্তার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ।

    তুঁতবাড়ি এলাকায় নিজের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে চেম্বার করে আসছেন বছর ৬৪-র চন্দ্রশেখর। রবিবার সন্ধ্যায় দুই দুষ্কৃতী রোগী সেজে সেখানে ঢোকে। চন্দ্রশেখরের ছেলে চিরঞ্জিৎ তাদের নাম নথিভুক্ত করতে এলে দুষ্কৃতীরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে ড্রাগ কেসের ভয় দেখায়। সন্দেহ হওয়ায় চিরঞ্জিৎ পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে এক দুষ্কৃতী আচমকা রুমাল দিয়ে চিকিৎসকের মুখ চেপে ধরে। চেয়ার থেকে পড়ে যান চিকিৎসক। আর এক দুষ্কৃতী চিকিৎসক–পুত্রর কলার চেপে কানের গোড়ায় আগ্নেয়াস্ত্র ধরে বলে দাবি। ছেলের চিৎকার শুনে বাড়ির ভিতর থেকে ছুটে আসেন তাঁর মা ও মামা। মা লাঠি হাতে তুলে নেন এবং মামা উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে হাতে একটি জলের বোতল নিয়ে বলে ওঠেন, ‘ওদের গায়ে অ্যাসিডটা ছুঁড়ে দে তো...’।

    ব্যস, এতেই কেল্লাফতে। পড়িমরি পালাতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। একজন তো চটি ফেলে রেখেই দৌড় লাগায়। ওদের পিছু ধাওয়া করেন চিরঞ্জিত। তিনি বলেন, ‘বাড়ির সামনের মোড়ে গিয়ে দেখি, তিনটি মোটরবাইক দাঁড়িয়ে আছে। ওরা মোট ছ’জন ছিল। মোটরবাইকে চেপে ওরা যখন পালাচ্ছে আমি খুব জোরে চেঁচাই— কে কোথায় আছো, তাড়াতাড়ি এসো, ডাকাত, ডাকাত। আমি ওদের কাছাকাছি চলে যেতেই পকেট থেকে বন্দুক বের করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। যদিও আমার গায়ে গুলি লাগেনি।’ ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র এলাকায় পৌঁছে তদন্ত শুরু করে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ।

    চন্দ্রশেখর দাসের শরীর ইদানিং খুব একটা ভালো নেই। অনেকদিন হলো বাইরের চেম্বার বন্ধ করে বাড়িতেই দু’বেলা রোগী দেখছেন। তবে রবিবার বিকেলে রোগী দেখেন না। চিকিৎসকের কথায়, ‘ওই দু’জন শরীর খারাপ নিয়ে আসে। রবিবার হলেও ভাবলাম দেখেই দিই। কিন্তু তার পরে যা হলো তা নিয়ে এখনও আতঙ্কে রয়েছি।’ সোমবার সকালে অবশ্য চেম্বার করেছেন তিনি। তবে আগামী দিনে বিকেলে আর চেম্বার করবেন কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনও নেননি।

  • Link to this news (এই সময়)