• কোচের ভুল কৌশলে ডুবল মোহনবাগান
    বর্তমান | ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • শিশির ঘোষ: কয়েক মাসের ব্যবধানে দুটো সর্বভারতীয় ট্রফি জয়ের জন্য ইস্ট বেঙ্গলকে অভিনন্দন। রবিবার ডুরান্ড কাপের ফাইনাল এতটা একপেশে হবে ভাবিনি। এর যাবতীয় কৃতিত্ব কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের। সীমিত শক্তি নিয়েও যেভাবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি টেক্কা দিলেন, তার জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। আর কোচের ভুল স্ট্র্যাটেজিতেই ডুবল পালতোলা নৌকা। মরশুমের শুরুতে সের্গিও লোবেরাকে সরিয়ে পানাজিওটিস নামক ব্যক্তিকে ধরে আনেন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা এক ফুটবল বোদ্ধা। গত মরশুমে আইএসএলে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করা দলের কোচ কি না মোহন বাগানের দায়িত্বে! সাফল্য নেই একবিন্দু। শুধু মুখেই মারিতং জগৎ। ম্যাচ রিডিং শূন্য। না হলে গোটা টুর্নামেন্টে দুরন্ত ফুটবল খেলা সাহালকে কেউ বেঞ্চে রেখে দল সাজায়?

    কথায় আছে চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। এঁর তো দেখলাম সেটাও নেই। এক গোল দেওয়ার পরেও স্ট্র্যাটেজিতে কোনো পরিবর্তন দেখলাম না। আসলে রবিবার মোহন বাগান ফুটবলারদের মধ্যে জেতার ইচ্ছাই ছিল না। লিস্টন, মনবীরদের নিয়ে যত কম বলা যায় ততই মঙ্গল। আপুইয়া, অনিরুদ্ধ থাপাও তথৈবচ। ওরা নাকি মিডফিল্ড জেনারেল! ওদের পারলে কেউ গৌতম সরকার, প্রশান্ত ব্যানার্জিদের গল্প শোনাক। আর শুভাশিস তো নেতৃত্বের মানেই বোঝে না। ক্যাপ্টেন মানে ক্যাপ অব টেন মেন। আর ও পেনশন স্কিমে খেলে যাচ্ছে। মোহন বাগান দলে সব পজিশনে ফুটবলার রিক্রুট হয়, লেফট ব্যাকে আর ফুটবলার আসে না।

    এই মোহন বাগান দলের ফুটবলারদের হাবভাবের শেষ নেই। কিন্তু আসল সময়ে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ। কোয়ার্টার-ফাইনাল আর সেমি-ফাইনালে বিশালের হাত ধরে কোনোক্রমে উতরে গিয়েছিল। তবে রোজ রোজ তা সম্ভব নয়। আসলে টাকা থাকলেই হয় না। প্রয়োজন সদ্বিচ্ছার। সঞ্জীব গোয়েঙ্কা সজ্জন ব্যক্তি। সফল ব্যবসায়ী। নিজে মোহন বাগান সমর্থক। তবে দল চালানোর জন্য যোগ্য লোকের দরকার, এটা তাঁকে বুঝতে হবে। ২ আনার ফুটবলারকে ১৬ আনায় সই করিয়ে কার স্বার্থসিদ্ধি হচ্ছে? তাহলে দিনের শেষে ফল এমনই হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)