পার্কস্ট্রিটে 'দুধ গরম' করা মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে, শুভেন্দু বললেন, 'থাকার ব্যবস্থা করে দেব'
আজ তক | ২৫ আগস্ট ২০২৬
'১৫ বছর মমতা খোঁজ নেয়নি। এখন মমতা লোক পাঠাচ্ছে টাকা নাও, বিজেপির নামে নিন্দা করো। উনি বলেছেন মুখ্যমন্ত্রীকে ভরসা করি। আমি বলেছি, আপনার থাকার ব্যবস্থা আমরা করে দেব।', মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে পার্কস্ট্রিটে শিশুর দুধ গরম করে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে ধমক খাওয়া মহিলাকে ঠিক এমন আশ্বাসই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এভাবেই মাস্টারস্টোক দিলেন শুভেন্দু। তিনি বিরোধীদের সমালোচনা করার সুযোগটাই কেড়ে নিলেন। নিজের সরকারের মানবিক মুখ তুলে ধরলেন সাধারণ মানুষের কাছে।
এই সময় মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ওই মহিলা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ বিরুদ্ধে করেননি। এমন পরিস্থিতিতে যাঁরা সরকারের নিন্দা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও সরব হন শুভেন্দু। তিনি বলেন, 'এখন যাঁরা নিন্দা করছেন, তাঁদেরকে বলব গত ৫০ বছর কেউ খোঁজ নেননি। সীতাদেবী এসে বলছেন বিজেপিকে ভরসা করি। মুখ্যমন্ত্রীকে ভরসা করি।'
ঠিক কী হয়েছে?
পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভীষণ সক্রিয় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি শহরজুড়ে নানা অনিয়ম হাতেনাতে ধরতে দিনভর পরিদর্শনে বের হচ্ছেন। সেই মতো শনিবার তিনি ঢুঁ মেরেছিলেন পার্কস্ট্রিটে। সেখানকার এলাকা পরিদর্শন করছিলেন।
সেখানেই সমস্যার সূত্রপাত। ওখানে এক মহিলাকে ফুটপাথে দুধ গরম করতে দেখে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন অগ্নিমিত্রা। কেন তারা ফুটপাতে সংসার পেতেছেন, কেন বাড়িতে থাকেন না, এই নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন তিনি। এমনকী ফুটপাতে শিশুর জামাকাপড় ঝুলতে দেখে সেগুলি সরিয়েও দেন মন্ত্রী।
আর এই ঘটনা সামনে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় ওঠে। একের পর এক পোস্টে সমালোচনা করা হয় অগ্নিমিত্রা এবং বিজেপির নয়া সরকারকে।
যদিও এমন পরিস্থিতিতেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, 'বিরোধীদের কান্নাকাটি শুনলাম। কেউ সেই দিন এই পরিবারের কাছে একবাটি দুধ নিয়ে এগিয়ে যায়নি। সকলে রাজনীতির আগুনে রুটি সেঁকেছেন। ২৮ বছর কংগ্রেস, ৩৪ বছর সিপিআইএম, ১৫ বছর তৃণমূল কংগ্রেস, এরা শুধু মানুষকে ঠকিয়েছে। পয়সা নিয়ে ফুটপাতে হকার বসিয়েছে। দুর্নীতি করেছে যারা, তাদের থেকে আমি মানবিকতা শিখব না।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা মানবিক, আমাদের সরকার মানবিক। বিরোধীদের দেখে মানবিকতা শিখব। ফুটপাত না বড়লোকের না গরিবের। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে এটা পথচলতি সাধারণ মানুষের। তাই ফুটপাত মানুষের চলাফেরার জন্য ফ্রি রাখতে হবে। কারণ মানুষ চলাফেরার জন্য পরিচ্ছন্ন যায়।'
তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বাড়তে থাকা ক্ষোভের মুখে জনতার দরবারে সেই মহিলার সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এই পরিবারের থাকার ব্যবস্থা করে দেবেন বলেও আশ্বাস দিলেন।