• স্ত্রী, কন্যা-সহ ‘আত্মঘাতী’ অন্ধ্রের ইঞ্জিনিয়র, ধর্মান্তরণের ভয়? অভিযুক্ত শুটিং কোচ সাদিক খান  
    প্রতিদিন | ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • অন্ধ্রপ্রদেশে গোদাবরী নদীতে সপরিবার ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন এক ইঞ্জিনিয়র। একটি সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছেন তিনি। সেখানে তাঁদের মৃত্যুর জন্য এক রাইফেল শুটিং কোচ শেখ সাদিক খানকে দায়ী করা হয়েছে। আত্মহত্যার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন অভিযুক্ত। শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। অভিযোগ উঠছে জোর করে ধর্মান্তরণের।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৬ আগস্ট গভীর রাতে রাজামাধবেন্দ্রম রেলসেতু থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গোদাবরীতে ঝাঁপ দেন ইঞ্জিনিয়র থিলাপুরি নুকারাজু, তাঁর স্ত্রী মীনা, কন্যা সৌজন্য। সঙ্গে ছিল নুকারাজুর ১০ বছরের নাতিও। বিষয়টি চোখে পড়ে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের। তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়ে শিশুটিকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন। বাকিদের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে।

    ঘটনার তদন্তে নামলে একটি সুইসাইড নোট হাতে আসে পুলিশের। সেখানে মৃত থিলাপুরি নুকারাজু তাঁর পরিবারের মর্মান্তিক পরিণতির জন্য রাইফেল শুটিং কোচ শেখ সাদিক খানকে দায়ী করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই রাইফেল শুটিং কোচের সঙ্গে দু’বছরের বেশি সময় ধরে পরিচয় ছিল পরিবারটির। তবে ঠিক কী কারণে তাঁদের সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    রাজ্যের প্রাক্তন সাংসদ বিজয়সাই রেড্ডি এই ঘটনার পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি পৃথকভাবে সিবিআই বা এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। রেড্ডির চাঞ্চল্য কর অভিযোগ, দশ সদস্যের একটি দলের অংশ ছিলেন অভিযুক্ত সাদিক খান। ধর্মান্তরণ, চাঁদাবাজি, আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ এবং দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তিনি। আরও দাবি করেন, দলটি কাকিনাড়া ও রাজামহেন্দ্রভরম এবং আশেপাশের এলাকায় আরও প্রায় ১৫টি পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল।

    কাকিনাড়ার পুলিশ সুপার বিন্দু মাধব জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন শুটিং কোচ। অবশেষে উত্তরপ্রদেশের মেরঠ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাদিককে। তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে মেরঠ থেকে অন্ধ্রপ্রদেশে নিয়ে আসা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)