যাদবপুরে ছাত্রবিক্ষোভ নাকি দেশবিরোধী চক্রান্ত! তদন্তে ক্যাম্পাসে পুলিশ
প্রতিদিন | ২৫ আগস্ট ২০২৬
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের ঘটনায় গত এক সপ্তাহ ধরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। গত বুধবার রাষ্ট্রীয় সয়ংসেবক সংঘের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ ওঠে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে দেশবিরোধী ও আপত্তিকর কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ তোলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই সব ঘটনার তদন্তের জন্য মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে এলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ (এসিপি) মনোজ কুমার ঝা।
তিনি এদিন সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলেন। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট কয়েকটি সিসিটিভির ফুটেজ চেয়েছে পুলিশ। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে সেই ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। এই নিয়েই মূলত রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা হয়েছে এসিপি মনোজ কুমার ঝা’র।
গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালে এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। জানা যায়, সোমবারই ক্যাম্পাসে গিয়েছিল পুলিশ। চাওয়া হয়েছিল সিসিটিভি ফুটেজ। মঙ্গলবার এসিপি মনোজ কুমার ঝা ক্যাম্পাসে গিয়ে রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলেন। প্রায় ৪৫ মিনিট দুজনের মধ্যে কথা হয়েছে। সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ কীভাবে সংগ্রহ করা হবে সেই বিষয়ে কথা হয়েছে দুজনের।
এবিষয়ে রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল জানান, কনফিডেনশিয়াল কিছু বিষয় রয়েছে। সেগুলি বাইরে বলা যাবে না। তবে পুলিশ যা যা চেয়েছে তা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। যে ফুটেজগুলি চাওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান রেজিস্ট্রার। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অসুস্থ। তিনি আসেননি। সেই কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে তিনিই পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেটসুর জিবি মিটিং হওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পোড়ানো হয় পতাকা। রাতে তাণ্ডব চলে বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই ঘটনার রেশ থাকে পরের দিন পর্যন্ত। দুই পক্ষের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীনও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের মাঝে ভেঙে যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম। তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে ওঠে।
সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সিএমওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস হস্টেলের কিছু ভিডিও এসেছে। কিছু ছবি বা স্লোগান আছে যা দেশের জন্য ঠিক নয়। কিষেণজি রেড স্যালুট চলবে না। এরপর রাতেই মুখ্যমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডল থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের বিভিন্ন দেওয়ালে থাকা আপত্তিকর, দেশবিরোধী স্লোগান নিয়েও আপত্তি তোলেন তিনি। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে এসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত শুরু করল।
এবিষয়ে এদিন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি বজায় রাখার কথা বলেন। যাদবপুরের ঘটনার নিন্দা জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, গবেষক এবং অন্যদের কাছে ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান মন্ত্রী। তাঁর কথায়, “শিক্ষা ও উৎকর্ষের পীঠস্থান হিসেবে জায়গা ধরে রাখতে হলে ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখতে হবে। এই সব উটকো ঝামেলার কারণে যেন গোটা বিশ্বে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বদনাম না হয়।”