৬৬ কোটির সোনা-রুপো হাতিয়ে চম্পট কর্মচারীর, কর্ণাটক থেকে পাকড়াও করল শেক্সপিয়র সরণি থানা
বর্তমান | ২৫ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেক্সপিয়র সরণি এলাকায় এক প্রখ্যাত স্বর্ণালংকার প্রস্তুতকারী সংস্থার কারখানা থেকে প্রায় ৬৬ কোটি টাকার সোনা ও রূপার বাট হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে আলোড়ন শুরু হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দফায় দফায় ওই কারখানা থেকে সরানো হয়েছে সোনা এবং রূপা। ‘উধাও’ হয়ে যায় সংস্থার কারখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মী। সন্দেহ ঘনীভূত হওয়ায়, সোনা ও রূপার ‘স্টক’ মিলিয়ে দেখতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে স্বর্ণালংকার সংস্থার। কারখানার স্টক থেকে উধাও হয়েছে ৬০ কেজি সোনা এবং ১০ কেজি পরিমাণের রূপা। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী যার অর্থমূল্য প্রায় ৯৩ কোটি টাকা।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে উধাও হয়ে যাওয়া কর্মী আনন্দকুমার গুপ্তাকে কর্ণাটক থেকে শনিবার পুলিশ পাকড়াও করেছে। অভিযুক্তকে সোমবার ট্রানজিট রিমান্ডে ব্যাঙ্কশালের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) পায়েল বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে হাজির করা হয়। বিচারক তাঁকে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেন। ‘ফেরার’ হয়ে যাওয়া আনন্দ কুমারকে পাকড়াও করতে সম্প্রতি পুলিশ আদালতে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন জানিয়েছিল। এই পর্বেই আনন্দের মোবাইল নম্বরের হদিশ মেলে। টাওয়ার লোকেশন থেকে জানা যায় তার বর্তমান অবস্থান। ইতিমধ্যে আদালত থেকে মেলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও। তার ভিত্তিতে শেক্সপিয়র সরণি থানার তদন্তকারীরা কর্ণাটক পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই কর্মী সংশ্লিষ্ট সংস্থায় সোনা‑রূপার যাবতীয় স্টক দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। সংস্থার যাবতীয় নাড়ি-নক্ষত্র তার জানা ছিল। সরকারি কৌঁসুলি রাধানাথ রং এদিন আদালতে বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রতিদিনের সোনা-রূপার স্টক খাতায়-কলমে ঠিকঠাক দেখাচ্ছিল ওই কর্মী। তারই মাঝে ভল্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে সোনা ও রূপার বাট সরাচ্ছিল ওই ‘কীর্তিমান’ কর্মী।’ পাঁচ বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৬ কোটিতে। কয়েক মাস আগে থেকে ওই কর্মী কাজ ছেড়ে দিয়ে যাবতীয় যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। অভিযোগকারী স্বর্ণ ব্যবসা সংস্থার তরফে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ সুর্নিদিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্তে নামে। এদিন ধৃতের তরফে আদালতে জামিনের আবেদন জানানো হয়। কিন্তু সরকারি কৌঁসুলি তাতে জোরালো আপত্তি জানান। তিনি বলেন, বিপুল টাকার সোনা‑রূপা বিক্রি করা হয়েছে, নাকি গলিয়ে অন্যত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তা জানতে আনন্দকে হেপাজতে নেওয়াটা জরুরি।