• জেলায় জেলায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বাড়ছে, খুন বিজেপি নেতা, তোলাবাজি-কাটমানি থেকে পুজো কমিটির দখল
    বর্তমান | ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: তোলাবাজি-কাটমানির বখরা নিয়ে পদ্মপার্টির নীচুতলার গোলমাল চলছেই! এরই মধ্যে আবার পুজোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও শুরু হয়েছে কোন্দল। আর সেটাই প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছে গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। খুন হলেন দীর্ঘদিনের এক বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক (৪৫)। পরিবারের অভিযোগের তির, স্থানীয় এক বিজেপি নেতার দিকে। এই বারুইপুরেরই পিয়ালি এলাকায় বাড়ি দখল মুক্ত করাতে চাওয়া এক মহিলার কাছে দেড় লক্ষ টাকা ‘তোলা’ চেয়ে আইনের জালে ফেঁসেছেন এক বিজেপির মণ্ডল সভাপতি ও তাঁর সঙ্গীরা। থানায় অভিযোগ জানানোর ‘অপরাধে’ ওই মহিলার দোকান ভাঙচুরের পাশাপাশি তাঁকে এবং তাঁর মেয়েকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। পিয়ালিতেই আবার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা কাটমানি চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে। মহিলা কিছু টাকা দিয়ে নিষ্কৃতি পেতে চাইলে তাঁকে নানাভাবে ভয় দেখানো হয়। এই পর্বে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্তরা বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে এবং তাঁর মেয়েকে মারধর করে। হামলার ঘটনা নিয়ে ফের পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই মহিলা। রাজ্যের আর এক প্রান্ত মালদহের ইংলিশবাজার পুরসভার এক বিজেপি কাউন্সিলার মহিলা পরিচালিত এক দুর্গাপুজোর আয়োজন বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে বিজেপির ওই মহিলা কাউন্সিলারের অনুগামীদের সঙ্গে আয়োজকদের হাতাহাতি হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাতে বারুইপুর থানার উত্তর টাঙ্গরবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী বাপিকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর একটি নির্জন জায়গায় প্রথমে পিটিয়ে তারপর কুপিয়ে খুন করা হয় তাঁকে। পরিবারের দাবি, বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সুজন মণ্ডলের রাগ ছিল বাপির উপর। তাঁর পরিকল্পনাতেই এই খুন। যদিও পুলিশের দাবি, পুজো কমিটির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারির জেরে আহত হয় বাপি সহ কয়েকজন। জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। বারুইপুরের পিয়ালিতে তোলা চাওয়ার ঘটনায় অভিযোগের তির যাঁর দিকে, বিজেপির সেই মণ্ডল সভাপতি সুরেশ বৈদ্য বলেছেন, মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। মহিলার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কিস্তির টাকা থেকে কাটমানি চাওয়া এবং থানায় অভিযোগ জানানোর জেরে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোদ্দার বলেন, ‘অভিযোগের কোনো সত্যতা এখনও মেলেনি। প্রমাণ মিললে, দলীয় স্তরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

    অপরদিকে, বিজেপির একাংশের তোলাবাজি-সন্ত্রাসের ঘটনায় অতিষ্ঠ আদিবাসী মহিলারা সুন্দরবনের হাড়োয়ায় সোমবার ঝাঁটা হাতে বিক্ষোভ দেখান। হাড়োয়ার গোপালপুর-১ নম্বর পঞ্চায়েতের মুন্সিঘেরি এলাকার ওই মহিলাদের অভিযোগ, জমির মালিকদের কাছ থেকে মোটা টাকা তোলা চাইছে হাড়োয়া মণ্ডল সভাপতির লোকজন। প্রতিবাদ করলে, রাতের অন্ধকারে এলাকায় গিয়ে শূন্যে গুলি চালানো এবং বোমাবাজি করা হচ্ছে। এছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের থাউর গ্রামে রবিবার বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে রক্তাক্ত হয়েছেন প্রায় ১০-১২ জন।
  • Link to this news (বর্তমান)