• দিল্লিতে H1N1-এর দাপট, ২৩০০ ছাড়াল ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ, মাস্ক পরার পরামর্শ
    এই সময় | ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • বর্ষার মরশুমে দিল্লিতে ইনফ্লুয়েঞ্জার রক্তচক্ষু। রাজধানীতে Influenza-A আক্রান্তের সংখ্যা ২৩০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে H1N1 বা সোয়াইন ফ্লু-র সংক্রমণও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে দিল্লি সরকার সাধারণ মানুষকে ভিড় জায়গায় বা পাবলিক প্লেসে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি হাত পরিষ্কার রাখা, কাশি-হাঁচির সময়ে মুখ-নাক ঢেকে রাখা এবং অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জার এমন বাড়বাড়ন্তের পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা।

    স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০ অগস্ট পর্যন্ত দিল্লিতে ১,৭৭৭টি H1N1 সংক্রমণ ধরা পড়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২২৯। অর্থাৎ এক বছরে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। একদিনেই ১১৪টি নতুন H1N1 সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। মোট Influenza-A আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২,৩৯২ বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ICMR জানিয়েছে, ভারতে H1N1-এর কোনও নতুন স্ট্রেন ছড়ায়নি। বর্তমানে যে ভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে, তা মূলত মরশুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার অংশ। গত বছর থেকেই এই ভাইরাসগুলি দেশে রয়েছে এবং নতুন কোনও অজানা ভ্যারিয়েন্টের প্রমাণ মেলেনি।

    বর্ষায় আবহাওয়ার পরিবর্তন, আর্দ্রতা এবং বদ্ধ জায়গায় মানুষের ভিড় শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ (respiratory virus) ছড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। H1N1-এর পাশাপাশি H3N2-সহ অন্যান্য ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।

    H1N1 যে কোনও বয়সের মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। তবে শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং হৃদ্‌যন্ত্র বা ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শারীরিক ভাবে বেশি ঝুঁকি থাকে। ডায়াবেটিস বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

    সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, সর্দি, মাথা ও শরীর ব্যথা এবং দুর্বলতা। শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা আচমকা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    ভিড় বা বদ্ধ জায়গায় মাস্ক ব্যবহার, নিয়মিত হাত ধোয়া, অপরিষ্কার হাতে চোখ-নাক-মুখ স্পর্শ না করা এবং কাশি-হাঁচির সময় মুখ ঢাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকা এবং অন্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। H1N1 ভাইরাসজনিত সংক্রমণ হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক সরাসরি কাজ করে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়।

    এদিকে সংক্রমণ বৃদ্ধির পরে দিল্লি সরকার হাসপাতালগুলিকে নজরদারি বাড়াতে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা প্রস্তুত রাখতে বলেছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকও করেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী পঙ্কজ সিং জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও ওষুধের ঘাটতি নেই। অর্থাৎ, নতুন কোনও H1N1 স্ট্রেনের প্রমাণ না মিললেও সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই আতঙ্ক নয়, বরং মাস্ক ব্যবহার করে, পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে সতর্ক থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। এ ছাড়া উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।

  • Link to this news (এই সময়)