বাজারে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি চিনির। যার কোপ পড়ল এ বার বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি নিকুতির উপর। কাঁচামালের দাম বাড়ায় সঙ্কটের মুখে পড়েছেন নদিয়ার শান্তিপুরের মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। ফলে বাধ্য হয়েই বাড়াতে হয়েছে নিকুতির। আগে কেজি প্রতি নিকুতির দাম ছিল ৩০০ টাকা। বর্তমানে কেজি প্রতি বেড়েছে ৫০ টাকা। তবে শুধু নিকুতি নয়, দাম বেড়ে অন্য মিষ্টিরও। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চিনির অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় পুরোনো দরে মিষ্টি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই বাড়াতে হয়েছে নিকুতির দাম।
নিকুতির দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা কমেছে আগের থেকে। যার ফলে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন ব্যবসীয়ারী। পরিস্থিতি না বদলালে আগামী দিনে বহু মিষ্টির দোকান পাকাপাকি ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কৃষ্ণনগরের সরপুরিয়া কিংবা রসগোল্লার মতোই শান্তিপুরের নিকুতি বহু বছর ধরে বাংলার ঐতিহ্য বহন করছে। ছানা মেখে ঘিয়ে ভাজা হয়। এর পরে তা চিনির রসে ডুবিয়ে তৈরি হয় নিকুতি।
দেশ-বিদেশের রসনাপ্রেমীদের কাছে নিকুতির বেশ কদর রয়েছে। কিন্তু চিনি, ছানা ও ঘিয়ের দাম আকাশছোঁয়া। সেই কারণেই নিকুতির ঐতিহ্য ধরে রাখতে রাজ্য সরকারের সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কারিগররা। স্থানীয় মিষ্টি ব্যবসায়ী দিলীপ কুন্ডু বলেন, ‘চিনির দাম বাড়ার কারণেই নিকুতির দাম বাড়ছে। আরও বাড়তে পারে দাম। আগে নিকুতির দাম ৩০০ টাকা কেজি ছিল। এখন ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পুজোর সময়ে কী হবে জানি না।’
১. নিকুতির দাম কেন বেড়েছে?
উত্তর: চিনির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি ছানা ও ঘিয়ের দামও বেড়েছে। ফলে নিকুতি তৈরির খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
২. শান্তিপুরে নিকুতির দাম কত বেড়েছে?
উত্তর: আগে প্রতি কেজি নিকুতির দাম ছিল ৩০০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ৩৫০ টাকা প্রতি কেজি হয়েছে।
৩. শুধু নিকুতির দামই কি বেড়েছে?
উত্তর: না। চিনির দাম বৃদ্ধির প্রভাব অন্যান্য মিষ্টির উপরেও পড়েছে। সেগুলির দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
৪. দাম বাড়ায় নিকুতির বিক্রিতে কী প্রভাব পড়েছে?
উত্তর: দাম এক ধাক্কায় বেড়ে যাওয়ায় দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা কমেছে। ফলে বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগে রয়েছেন।