অরুণাচল প্রদেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর ক্রমশ আগ্রাসন বাড়াচ্ছে চিন সেনা। যা ঘিরে দিল্লি-বেজিঙের মধ্যে চলছে চাপানউতর। এই পরিস্থিতিতে আগামী মাসে ‘ব্রিকস’ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সূত্রের খবর, ৪০০ প্রতিনিধি নিয়ে তিনি দিল্লিতে পা রাখবেন। এটি হবে গত সাত বছরে তাঁর প্রথম ভারত সফর। যদিও জিনপিঙের সফর নিয়ে সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত কিছু জানায়নি বেজিং। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বসতে চলেছে ‘ব্রিকস’ শীর্ষ সম্মেলন।
ভারতে চিনা প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য এই সফর এমন এক সময় হতে চলেছে যখন অরুণাচলে চিনা আগ্রাসনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা, নয়া মানচিত্র প্রকাশ করে এলএসি সংলগ্ন ২৭টি এলাকার নামবদল করেছে দিল্লি। অরুণাচলকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে চিন। অন্যদিকে, বেজিঙের এই দাবি বারবার খারিজ করে দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অরুণাচল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ভারতের সঙ্গে ৩৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে চিন। এই সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের বিবাদ দীর্ঘদিনের। ২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় মুখোমুখি হয় ভারত ও চিনের ফৌজ। দু’পক্ষের জওয়ানরাই লোহার রড ও কাঁটাতার জড়ানো হাতিয়ার নিয়ে বেশ কয়েক ঘণ্টা লড়াই করেন। রক্তক্ষয়ী সেই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন। ১৯৭৫ সালের পর সেই প্রথম প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পরেই সীমান্তে কার্যত যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। গালওয়ান সংঘর্ষের পর দু’দেশের সম্পর্কেরও অবনতি ঘটে।
এদিকে সীমান্ত বিবাদ ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে চিন সফরে গিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। মঙ্গলবার চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে দুই নেতা সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। দুই দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করার বিষয়েও কথা হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের এই আলোচনাকে গঠনমূলক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছে।