• দাম শুনেই চোখে জল, ‘পেঁয়াজ চাহিয়া লজ্জা দিবেন না’, কলকাতার ভাতের হোটেলে পড়ল পোস্টার
    এই সময় | ২৬ আগস্ট ২০২৬
  • পেঁয়াজ আমার, পেঁয়াজ ওগো...। কিন্তু পেঁয়াজ ভুবন ভরা নয় মোটেই। যা দাম, তাতে ঝাঁঝে নয়, টাকা বের করতে গিয়েই চোখে জল আসার জোগাড়। পাইস হোটেলগুলি ইতিমধ্যেই ‘রেড ফ্ল্যাগ’ তুলতে শুরু করেছে। চপ, সিঙাড়ার দোকানেও একই অবস্থা। কলকাতার ফড়িয়াপুকুরের একটি ভাতের হোটেল রীতিমতো পোস্টার দিয়ে এ বার জানিয়ে দিল, ‘পেঁয়াজ চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’

    খিদের মুখে একটু আলুভাতে আর আর এক টুকরো পেয়াঁজ। ব্যস, এক থালা গরম ভাত মুহূর্তে উধাও। ‘হাপুস হাপুস শব্দ, চারিদিক নিস্তব্ধ, পিঁপিড়া কাঁদিয়া যায় পাতে।’ এর সঙ্গে একটা কাঁচা লঙ্কা হলে তো সোনায় সোহাগা। কিন্তু এই সোহাগে বাধ সেধেছে দাম। কয়েক দিন আগেও ৩০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল। এখন কোথাও ৪৫, কোথাও ৫৩ টাকার কমে মিলছে না। কোথাও কোথাও তো দাম ৭০ পর্যন্ত উঠে গিয়েছে বলে অভিযোগ।

    নিশ্চিন্তে আর পেঁয়াজ খাবার সুখ মিলছে না বাঙালির। ফড়িয়াপুকুরের ওই ভাতের দোকানের মালিক বলেই দিলেন, ‘অনেক খদ্দেরই ভাত খেতে খেতে পেঁয়াজ চান। খারাপ লাগলেও না বলতে হচ্ছে। সোজাসুজি বলে দিচ্ছি, দিতে পারব না ভাই।’ খারাপ লাগছে বলেই পোস্টার টাঙিয়েছেন তিনি। খদ্দের নিজেই দেখে নিক। আর যেন না চায়। ভাবটা এমনই। স্যালাডে পেঁয়াজের টিকি দেখা যাচ্ছে না। জিভে কিল মেরে শসা, গাজরেই রসনা সামলাতে হচ্ছে

    সমস্যা কিন্তু আরও গভীর। এ তো শুধু এক টুকরো পেঁয়াজ চাওয়ার ব্যাপার নয়। মাছ, মাংস রান্নাতেও তো লাগবে। দাম বেড়ে গিয়েছে বলে কি বাঙালি মাছ খাবে না? তা হয়? শুধু আমিষ কেন, যে কোনও পদই একটু কষিয়ে রাঁধতে গেলে পেঁয়াজ ছাড়া চলবে না। তড়কাই ভাবুন। সাধারণ মুগ ডাল। আদা-রসুন বাটার সঙ্গে যদি পেঁয়াজ কুঁচি না দেওয়া হয়, কী ভাবে হবে? সেই স্বাদ-গন্ধ আসবে না মোটেই।

    পেঁয়াজ কষিয়ে তড়কা রান্নার পরেও তো এক টুকরো কাঁচা পেঁয়াজের আবদার থাকে খদ্দেরের। অনেকটা অসহায়ের মতো ফড়িয়াপুকুরের ওই ভাতের দোকানের মালিক বললেন, ‘তিনটে রুটি, হাফ প্লেট তড়কা নেওয়ার সময়েও অনেকে বলেন, একটা পেঁয়াজ দিয়ে দেবেন। কী করব বলুন। এ ভাবে ফ্রি-তে দশ কেজি পেঁয়াজ দিতে হয়’। এত টাকা আসবে কোথা থেকে? চপ, বা সিঙাড়ার সঙ্গেও পেঁয়াজে কামড় না বসালে অনেকের চলে না। দোকানদাররাও হাসিমুখে দেন। চাইতে হয় না। এখন সেখানেও ভাঁটা পড়তে শুরু করেছে।

    এমনিতেই চিনি প্রায় ৭০ টাকা কেজি। মিষ্টি খাওয়া মাথায় উঠেছে। দোকানের শোকেসের দিকে তাকিয়ে বাড়ি চলে আসাই ভালো। এখন পেঁয়াজের দামেও কান্নাকাটির জোগাড়। ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’-এর সেই গানটার কথা মনে পড়ছে অনেকেরই, ‘...খাবি কি, ঝাঁঝেই মরে যাবি...।’

  • Link to this news (এই সময়)