এই সময়, হাওড়া ও উলুবেড়িয়া: এ যেন, কেঁচো খুঁড়তে কেউটে। চিনি-সহ বিভিন্ন ভোজ্যপণ্যের দাম কেন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তার কারণ অনুসন্ধানে মঙ্গলবার হাওড়া সদর ও হাওড়া গ্রামীণ জেলার বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এবং পুলিশ। কোথাও আবার তাঁদের সঙ্গে হাজির ছিলেন খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। তাঁরা বিভিন্ন বাজারে ঢুকে পাইকারি ও খুচরো দাম মিলিয়ে দেখার পাশাপাশি গোডাউনে কত মাল মজুত আছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেন। সেই অভিযানে বেরিয়ে অন্য এক অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরলেন তাঁরা। হাওড়ার একাধিক বাজারে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকদের কাছে পেয়ে ক্রেতারা জানান, প্রতি বছরই বর্ষার সময় জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। এটা তেমন নতুন কিছু নয়। তার থেকে বরং ওজনে যে কারচুপি চলছে, সেটাকে আগে বন্ধ করার ব্যবস্থা করুন।
অভিযানের দায়িত্বে থাকা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিক শ্রাবণী রায় জানান, খুচরো বাজারে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ার খবর পেয়েই জনস্বার্থে এই সমীক্ষা ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন গোডাউন এবং দোকানে গিয়ে চিনি কত দামে কেনা হচ্ছে এবং কত দামে বিক্রি করা হচ্ছে, তা দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, খুচরো ব্যবসায়ীরা কতটা লাভ রেখে সাধারণ মানুষের কাছে পণ্য বিক্রি করছেন, সেটিও নজরে রাখা হচ্ছে।
এ দিনের অভিযানে আটা, ময়দা, বেসন, সুজি, আলু, পেঁয়াজ-সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও মজুতের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হয়। কোনও পণ্যের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক দাম নেওয়া হচ্ছে কি না বা কালোবাজারির মাধ্যমে কৃত্রিম ভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। সেই অভিযানের সময় অফিসাররা ওজনের কারচুপির বিষয়টি জানতে পারেন। বিভিন্ন বাজারে ক্রেতারা অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রেই দোকানদাররা সঠিক ওজন দিচ্ছেন না। অনেকেই এখনও হাতপাল্লা ব্যবহার করছেন। সেই অভিযোগ পাওয়ার পরে কয়েকটি দোকানের ওজন মাপার যন্ত্র পরীক্ষা করেন ইবির অফিসাররা।
কদমতলা এলাকার বাসিন্দা রাজীব পাল জানান, তিনি নিয়মিত কদমতলা বাজারে আনাজপাতি কিনতে যান। তাঁর ব্যাখ্যা, 'আবহাওয়া এবং পাইকারি বা জারের দামের উপরে আনাজপত্রের দাম অনেকটাই নির্ভর করে এবং চাহিদা জোগানের নিয়ম মেনে সেটা দাম কখনও বাড়ে, কখনও আবার কমে। কিন্তু ওজনের ক্ষেত্রে সাধারণ ক্রেতারা যাতে প্রতারিত না হন, সে দিকে প্রশাসনের আরও নজর দেওয়া প্রয়োজন। মাছ, আনাজ-সহ বিভিন্ন বাজারে ওজন যন্ত্র নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।'
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কদমতলা বাজারে এ দিনের অভিযানে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়েনি। তবে নজরদারি এখানেই শেষ হচ্ছে না। আগামী এক সপ্তাহ হাওড়ার বিভিন্ন বাজারে একই ভাবে অভিযান চালানো হবে। বাজারদর, মজুত, সরবরাহ, বিক্রয়মূল্য এবং ওজন, সব দিকেই নজর রাখবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
এ দিন উলুবেড়িয়ার নিমদিঘির আনাজের বাজার, রাজাপুর থানার যদুরবেড়িয়ার একটি গুদাম ও শ্যামপুর থানার খাডুবেড়িয়া এলাকায় একটি চিনির গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া গ্রামীণের পুলিশ সুপার অমিত ভার্মা ও উলুবেড়িয়ার মহকুমাশাসক মানসকুমার মণ্ডল, উলুবেড়িয়ার এসডিপিও ঈশান সিনহা, বিডিও এবং থানার ওসি। জেলা মার্কেটিং এবং খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরাও হাজির ছিলেন।
সরকারি আধিকারিকরা বিভিন্ন গোডাউন ও পাইকারি বাজারে গিয়ে স্টক মিলিয়ে দেখেন। বিভিন্ন মজুত সামগ্রী কত টাকায় তাঁরা কিনেছেন এবং কত টাকায় বিক্রি করছেন, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন তাঁরা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গেও তাঁরা কথা বলেন। অমিত ভার্মা জানান, এ দিন থেকে অভিযান শুরু হলো। নিয়মিত এই অভিযান চলবে। বাজারদরের থেকে বেশি দাম নিলে, আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।