এই সময়, বর্ধমান: প্রত্যেকদিন সর্পাতঙ্ক নিয়ে স্কুলে আসছে খুদে পড়ুয়ার দল। একই অবস্থা শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও। অজানা ভয় নিয়ে ক্লাসে বসে আছে পড়ুয়ারা। তাদের পড়াচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
এই ছবি পূর্ব বর্ধমান জেলার খেতুড়া আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। প্রত্যেক বর্ষার মরশুমে এমনটাই হয়। সোমবার দুপুরে টিফিনের সময়ে ব্ল্যাকবোর্ডের পিছনে একটি বিষধর সাপ দেখতে পায় এক ছাত্রী। বিষয়টি সঙ্গে শিক্ষকদের জানানো হয়। শিক্ষকরা এসে দেখেন, সেটি বিশাল আকারের একটি চন্দ্রবোড়া সাপ। শিশুদের চিৎকারে স্কুলের আশপাশে থাকা গ্রামের লোকও ছুটে আসেন। কোনওরকমে সাপটি বের করা হলেও গ্রামের এক অতি উৎসাহী ব্যক্তি সাপটি মেরে ফেলেন, যা চাননি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
মঙ্গলবারও স্কুলে ফের সাপ দেখা গিয়েছে। তবে সেটি নির্বিষ ঢোঁড়া সাপ। কিন্তু আতঙ্ক থেকে মুক্তি মিলছে না। খেতুড়া আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৬৬। অধিকাংশই আদিবাসী সম্প্রদায়ের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই স্কুলের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছে যে, ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে। টিনের চালের এই স্কুলের পিছনেই রয়েছে ঝোপ ও পুকুর। পুকুরের পাড়ও জঙ্গলে ভরা।
শুধু তাই নয়। স্কুল ভবনের দেওয়ালের একাধিক জায়গায় ফাটল ধরেছে। দু'টি ঘরেই চলে পাঁচটি শ্রেণির ক্লাস। শিক্ষকদের সে ভাবে বসার জন্য নেই আলাদা কোনও ঘর। এই অবস্থায় স্কুলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দ্রুত স্কুল ভবন সংস্কার এবং পরিকাঠামোর উন্নতির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের একাংশ। মিঠু মেটে নামে এক অভিভাবক বললেন, 'আমার মেয়ে এই স্কুলের ছাত্রী। আগেও স্কুলে সাপ বেরোত। এখনও বেরোচ্ছে। যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।'
স্কুলের শিক্ষক সুপ্রিয় চট্টোপাধ্যায় বললেন, 'ওই বিষধর সাপ ব্ল্যাকবোর্ডের পিছনে ছিল। এক ছাত্রী তা দেখতে পেয়ে চিৎকার করায় বড় বিপদ হয়নি। কিন্তু কোনও ভাবে যদি মেঝে বা দেওয়ালের ধারে সাপটি থাকত এবং কাউকে ছোবল দিত, তা হলে যে কী হতো।' তিনি যোগ করেন, 'পঞ্চায়েত থেকে যদি এলাকার আশপাশটা নিয়মিত পরিষ্কার করে দেওয়া হতো, তা হলে স্বস্তি পেতাম। এখন কী হবে, বুঝতে পারছি না।'