এই সময়: ১৫ অগস্ট লালকেল্লায় ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধ শোনা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর মুখে। এ বার মুখ্যমন্ত্রীও যাদবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার পিছনে ‘দিমাগি নকশাল’–দের ভূমিকার কথা উল্লেখ করলেন। এ দিনই তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ২৮ তারিখ, রাখি বন্ধনের দিন যাদবপুরে ১০ লোকের জমায়েত করে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়ার জন্য ১ কিলোমিটার র্যাম্প তৈরি করা হবে।
যাদবপুরের ক্যাম্পাসে হামলা নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে শুভেন্দু সোমবার এক্স হ্যান্ডলে কিছু ভিডিয়ো পোস্ট করেন। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘আমি গতকাল (সোমবার) চারটে ভিডিয়ো ছাড়তে বাধ্য হলাম। একটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে–– লেখা রয়েছে ‘রেড স্যালুট কিষেণজি।’ কে কিষেণজি? ১ হাজার ভারতীয়কে খুন করেছেন। পুলিশকেও খুন করেছেন। ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’ যাঁরা বলবেন, তাঁদের স্থান–– কলকাতা, যাদবপুর, পশ্চিমবঙ্গে হবে না।’
‘যাদবপুর ক্যাম্পাসে কেন আজাদি স্লোগান ওঠে?’ এই প্রশ্নও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর কথায়, ‘যাদবপুরের আর্টস বিভাগের হস্টেলের দেওয়ালে ভারতকে ছোট করে কার্টুন আঁকবেন? বাজনা বাজাতে বাজাতে বলবেন ‘আজাদি’? কেয়া আজাদি! ১৯৪৭–এর ১৫ অগস্ট আজাদি হয়ে গিয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কথার প্রতিধ্বনি করে বলি––এরা দিমাগি নকশাল। এদের যাঁরা সাপোর্ট করছেন, তাঁদের কাউকে বিজেপি সরকার ছাড়বে না।’
যাদবপুরে রাখি বন্ধনের দিন মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি প্রসঙ্গে তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’––এমন স্লোগান আমরা সমর্থন করি না। কিন্তু সে দিন যারা ক্যাম্পাসে হামলা করেছিল, তাঁদের কেন শুভেন্দু গ্রেপ্তার করছেন না? দেশপ্রেম থেকেই রাখিবন্ধন উৎসব শুরু হয়েছিল। বিজেপি নেতারা গত বছর কেন রাখি পরেননি?’ শুভেন্দুর বক্তব্য নিয়ে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘কিষেণজির বাহিনী তো সিপিএমের কর্মীদের খুন করেছিল। উনি তৃণমূলনেত্রী মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চেয়েছিলেন। সেই সময়ে তৃণমূলের নেতা ছিলেন শুভেন্দু। উনি সেটা ভুলে গিয়েছেন? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা বলেন, তাঁরাই দেশ বিরোধী।’ এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, ‘যাদবপুর ক্যাম্পাসে হামলাকারীদের প্রতি শাসক দলের মদত রয়েছে, তাই এখনও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গত সপ্তাহে দুষ্কৃতী তাণ্ডবের জেরে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বামেদের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের জোরদার লড়াই চলছে। দু’পক্ষই পথে নেমেছে। এই প্রেক্ষাপটে র্যাম্প তৈরি করে ১০ হাজার জনতাকে নিয়ে ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়ার ঘোষণা এই ঘটনাপ্রবাহে নয়া মাত্রা যোগ করেছে।
একটি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার বলেন, ‘আগামী ২৮ তারিখ বিকেল ৫ টায় আসুন। যাদবপুরে ১ কিলোমিটার দীর্ঘ র্যাম্প তৈরি হচ্ছে। ১০ হাজার কন্ঠে পূর্ণাঙ্গ বন্দেমাতরম গাওয়া হবে। প্রথম অংশ নিয়ে ওদের আপত্তি নেই, ‘তোমার প্রতিমা গড়ি মন্দিরে মন্দিরে’–– এটা নিয়ে আপত্তি রয়েছে।’