ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্যের শাস্তি! ভারতের ৪ সংস্থা, ৩ শিল্পপতির উপর নিষেধাজ্ঞা আমেরিকার
প্রতিদিন | ২৬ আগস্ট ২০২৬
ইরানকে হাতে মারতে না পেরে ভাতে মারতে উঠেপড়ে লেগেছে আমেরিকা। দেশটির অর্থনীতিকে দুরমুশ করতে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য (Iran Oil Trade) করা সকলের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপাচ্ছে ট্রাম্পের দেশ। সেই অঙ্কে আমেরিকার কোপে পড়ল ভারত। ৪ ভারতীয় সংস্থা ও ৩ নাগরিকের উপর চাপানো হল নিষেধাজ্ঞা। ‘অপারেশন ইকনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের যে ৪ সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে তাঁর মধ্যে সবার উপরে রয়েছে পোর্টিজ পার্টনার্স এলএলপি। এই কাস্টমস ব্রোকার সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ এরা ভারতের বাজারে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানিতে সহায়তা করেছে। দ্বিতীয়ত, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, সংস্থাটি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে ৬৯ মিলিয়ন ডলারের পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে। এছাড়া বাকি দুই সংস্থা পিপি সফটটেক এবং প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইম্পেক্স দুই সংস্থার বিরুদ্ধেই প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার মূল্যের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অভিযোগ উঠেছে।
পাশাপাশি যে ৩ জন ব্যক্তিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তাঁরা হলেন পোর্টিজ পার্টনার্সের দুই অংশীদার হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গি, ইন্দ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ এবং পিপি সফটটেকের প্রশান্ত গর্গ। আমেরিকার দাবি, এই চার সংস্থা ও ৩ ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে ইরান থেকে পণ্য কেনা, বিক্রি, পরিবহণ ও বিপননের সঙ্গে যুক্ত ছিল। যার জেরেই এই পদক্ষেপ। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের ৬০ জন ব্যক্তি, সংস্থা ও জাহাজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই ইরান ও ইরানকে সহায়তা করা সব দেশের উপর কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট। বেসেন্ট ঘোষণা করেন, তেহরানকে অর্থ পাচারে সহায়তা করা সমস্ত দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে মার্কিন ডলার ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে। তাঁর সতর্কবার্তা, “এক্ষুনি ইরানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করুন। না হলে আপনাদের উপরও চাপানো হবে নিষেধাজ্ঞা।” সেইমতোই এই পদক্ষেপ বলে জানা যাচ্ছে।