এই সময়: গাঁজা খেয়ে বিমান চালাচ্ছিলেন পাইলট। এমনই অভিযোগ উঠেছিল ৪ অগস্ট ফুকেট–দিল্লি রুটের এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ওডিশার আকাশে আচমকাই ৩০০ ফুট নীচে নেমে আসার পরে। দু’বার ডোপ পরীক্ষায় পাইলট পজ়িটিভ আসেন। তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের আকাশে বিমান পরিবহণের নিয়ন্ত্রক, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)–এর নিয়ম অনুযায়ী, বছরে একবার প্রতিটি এয়ারলাইন্সকে তাদের পাইলটদের ১০ শতাংশের র্যানডাম ডোপ পরীক্ষা করতে হয়। কিন্তু, ৪ অগস্টের ঘটনার পরে বদলে যায় ছবিটা। অগস্টের মাঝামাঝি এয়ার ইন্ডিয়া ঘোষণা করে, এ বার থেকে তাদের ১০০ শতাংশ পাইলটকেই বছরে একবার ডোপ টেস্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। কার কখন সেই পরীক্ষা হবে, তা আগে জানবেন না পাইলটেরা।
এ বার ডিজিসিএ–ও সেই পথে হাঁটতে পারে বলে জানালেন বিমানমন্ত্রী রামমোহন নাইডু। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘ডিজিসিএ–র তরফে বছরে একবার প্রতিটি পাইলটের র্যানডাম ডোপ টেস্ট করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠিন নিয়ম লাগু করা যায় কি না, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা বলছে ডিজিসিএ।’
তবে, আইনে বদল আনার সময়ে যাত্রীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি এয়ারলাইন্সের অপারেশনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ফুকেট–দিল্লি ফ্লাইটের পাইলট ডোপ টেস্টে ধরা পড়ার পরে সামগ্রিক ভাবে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ৪ অগস্টের ঘটনায় বিমানকর্মী ও যাত্রী মিলিয়ে প্রায় ২০ জন আহতও হয়েছিলেন।
ওই ঘটনা নিয়ে তদন্তে নেমেছে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিমানের সমস্ত তথ্য অটুট রয়েছে এবং বিমানটি এখন নিয়মিত উড়েও বেড়াচ্ছে। তাই, খুব তাড়াতাড়ি ওই ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসতে পারে। প্রাথমিক ভাবে এয়ার ইন্ডিয়া খারাপ আবহাওয়ার দিকে আঙুল তুললেও পরে তদন্ত চলাকালীন ফ্রান্সের এয়ারবাস সংস্থা হাইড্রলিক ফেলিওর–কে দায়ী করে।