• ঝুঁকি জেনেও চলে অসহায় পারাপার, বাড়ছে ক্ষোভ
    এই সময় | ২৬ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, ভোগপুর: রেল স্টেশনের গা ঘেঁষে রয়েছে ভোগপুর কেনারাম মেমোরিয়াল হাইস্কুল। রেললাইনের দু'দিকে ব্যস্ত জনপদ। অথচ, কোনও লেভেল ক্রসিং বা আন্ডারপাস তৈরি হয়নি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ভোগপুর স্টেশনে। স্বয়ংক্রিয় লেভেল ক্রসিং ও আন্ডারপাস তৈরির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে ভোগপুর স্টেশন লেভেল ক্রসিং নির্মাণ কমিটি। কিন্তু আজও কোনও সুরাহা মেলেনি।

    বিশেষ ভাবে সক্ষমদের প্ল্যাটফর্ম বদল করার জন্য বহু বছর আগে স্টেশনের এক প্রান্তে ছোট্ট একটি 'কাট' রাখা হয়েছিল। স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন সময়ে মোরাম ফেলে 'কাট'টিকে চওড়া করে ফেলেন। রেল লাইন পারাপারের বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না-করে ২০২৫-এ ওই অবৈধ 'কাট'-এর দু'দিকে লোহার পিলার পুঁতে দেন রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে ওই অংশ দিয়ে তিন ও চার চাকার যানবাহন পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। তবে ওই দিক দিয়েই সাইকেল ও মোটরবাইক নিয়ে রেললাইন পারাপার করেন স্থানীয়রা। রেললাইন পেরোনোর বিকল্প পথ না-থাকায় ঝুঁকি নিয়ে ওই অংশ দিয়ে রেললাইন পেরিয়ে স্কুলে যায় ভোগপুর কেনারাম মেমোরিয়াল হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও।

    স্থানীয় বাঙালপুর গ্রামের লোকজনকে ভোগপুর স্টেশনে পৌঁছতে গেলে রেললাইন বরাবর সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। রাস্তাটি রেললাইনের গা ঘেঁষে যাওয়ার ফলে অনেক সময়ে ট্রেনের গতির বাতাসেই পড়ে যান পথচারীরা। ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা এবং 'কাট' এড়িয়ে নিরাপদে ভোগপুর স্টেশনে পৌঁছতে গেলে ঘুরপথে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার পথ পেরোতে হয়। ফলে, বেশিরভাগ লোকজন 'ঝঞ্ঝাট' এড়িয়ে বেছে নেন 'শর্টকাট'।

    মঙ্গলবারের দুর্ঘটনায় মৃত সোমা জানার সহপাঠী জয়িতা খাটুয়ার কথায়, 'রেললাইন পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে খুব ভয় লাগে। কিন্তু উপায় নেই। স্কুলে তো যেতেই হবে। রেল আন্ডারপাস ও অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি করলে আজ সোমাকে এ ভাবে চলে যেতে হতো না!'

    ভোগপুর স্টেশন লেভেল ক্রসিং নির্মাণ ও উন্নয়ন কমিটির উপদেষ্টা নারায়ণচন্দ্র নায়ক বলেন, 'রেলের কাজের জন্য যাতায়াতের রাস্তাটি একেবারে সঙ্কীর্ণ হয়ে গিয়েছে। লোকজন বাধ্য হচ্ছেন রেললাইনের গা ঘেঁষেই যাতায়াত করতে। শুধু তাই নয়, যানবাহন নিয়ে ভোগপুর স্টেশনে রেললাইন পারাপারের কোনও ব্যবস্থা নেই। এই ছাত্রীর মৃত্যুর পরেও কি উদাসীন থাকবে রেল? অবিলম্বে ভোগপুরে আন্ডারপাস তৈরি করুক রেল।'

    দক্ষিণ-পূর্ব রেলের পাঁশকুড়া ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার প্রফুল্লকুমার রাউত বলেন, 'রেল সিদ্ধান্ত নিয়েছে রক্ষীবিহীন ক্রসিং রাখা হবে না। ভোগপুর স্টেশনেও আন্ডারপাস তৈরির অনুমোদন মিলেছে।'

  • Link to this news (এই সময়)