ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জলমগ্ন হরিয়ানার গুরুগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। যানজট, জলবন্দি রাস্তা এবং নিকাশির বেহাল দশা নিয়ে সরব সাধারণ বাসিন্দারা। গত সোমবার গুরুগ্রামের ‘মিলেনিয়াম সিটি’ এলাকায় জলমগ্ন রাস্তায় আতঙ্কিত শিশু পড়ুয়াদের নিয়ে বেশ কয়েকটি স্কুল বাস আটকে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এর মাঝেই হরিয়ানার বিজেপি সাংসদ ধর্মবীর সিংয়ের মন্ত্যব্যে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কবে এই জল জমার সমস্যা থেকে মুক্ত হবে গুরুগ্রামের বাসিন্দারা? একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে সেই সাংসদ বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, ২০৪৭ সালের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।’
ভিওয়ানি-মহেন্দ্রগড়ের বিজেপি সাংসদের দাবি, এই জল জমার সমস্যার মূলে রয়েছে ৬০ বছর আগে গুরুগ্রামের নগরপরিকল্পনা। তখন পরিকল্পনাকারীরা বুঝতে পারেননি যে, শহরটি এত দ্রুত গতিতে প্রসারিত হবে। সাংসদের কথায়, ‘আমরা জানতাম না যে গুরুগ্রামে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ, বাড়িঘর ও যানবাহনের সমাগম ঘটবে।’
সাংসদ আরও জানান, পুরোনো নিকাশি ব্যবস্থার জায়গা বেদখল হয়ে গিয়েছে। আর সেই ড্রেনগুলো চওড়া করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ‘নির্মাণকাজের ফলে পুরনো ড্রেনগুলোর পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছে; তাই এখন সেগুলোকে আর চওড়া করা যাচ্ছে না।’ ‘মিলেনিয়াম সিটি’র বাসিন্দাদের সমস্যার কবে সুরাহা হবে— প্রশ্নের জবাবে সাংসদ জানান, ২০৪৭ সালের জন্য তৈরি মাস্টারপ্ল্যান সব সমস্যার সমাধান করবে।
সাংসদের দাবি, ২০৪৭ সালের নতুন মাস্টারপ্ল্যান গুরগ্রামের ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হবে। সেই পরিকল্পনায় নিকাশি ব্যবস্থা-সহ শহরের পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলির সমাধান করা হবে। আপাতত যে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তার তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জলের তলায় চলে যাওয়ায় যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির জেরে এ বার জলমগ্ন রাস্তায় স্কুলবাস চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল জেলা প্রশাসন। তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন শহরের বাসিন্দারা।
প্রশ্ন: গুরগ্রামে কেন বারবার জল জমে?
উত্তর: পুরোনো নিকাশি ব্যবস্থা, দ্রুত নগরায়ণ, নালার উপর নির্মাণ এবং অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত—এই কারণগুলিকে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রশ্ন: গুরগ্রামের জলাবদ্ধতা কবে পুরোপুরি ঠিক হবে?
উত্তর: বিজেপি সাংসদ ধর্মবীর সিংহের দাবি, ২০৪৭ সালের মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে শহরের পরিকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
প্রশ্ন: পুরনো নালাগুলি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: সাংসদদের বক্তব্য অনুযায়ী, পুরনো প্রাকৃতিক জলপথ ও নালাগুলি একসময় পাহাড়ি এলাকার জল নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত। পরবর্তী নির্মাণের ফলে সেই জলপ্রবাহ ব্যাহত হয়েছে।
প্রশ্ন: জলাবদ্ধতা কমাতে কী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: পুরনো নালার পথ ধরে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ তৈরি করে জল নিষ্কাশনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: গুরগ্রামের বর্তমান সমস্যার জন্য কি সরকারকে দায়ী করা হয়েছে?
উত্তর: ধর্মবীর সিংহ সরকারের দায় অস্বীকার করে পুরনো পরিকল্পনা, দ্রুত নগরায়ণ এবং পরিবর্তিত বৃষ্টিপাতের ধরনকে সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।