রেসকোর্সে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের কাছে যে বস্তি এলাকা রয়েছে, তা খালি করার নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বস্তির ৭০০ পরিবারকে ছ’সপ্তাহের মধ্যে জায়গা খালি করে দিতে বলা হয়েছে। তবে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আদালত জানিয়েছে, ‘সবদা ঘেবরা’ এলাকায় তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে।
উচ্চ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কায়ারের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ কার্যকর করতে দিল্লির প্রাক্তন জেলা জজ মনমোহন শর্মার নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বস্তিবাসীরা যাতে ঠিক মতো সুযোগ-সুবিধা পান, তা এই কমিটি আগামী ছ’মাস ধরে তদারকি করবে। প্রয়োজনে যে কোনও সরকারি সংস্থাকে নির্দেশও দিতে পারবে। এ ছাড়া ‘দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ড’-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন বস্তিবাসীদের ঘরের আসবাবপত্র স্থানান্তরের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে।
এই মামলায় সরকারের হয়ে সওয়াল করেছিলেন কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা এবং কাউন্সেল আশিস দীক্ষিত। তাঁরা আদালতে যুক্তি দেন, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। যে জায়গায় বস্তিটি রয়েছে, তার কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের পাশাপাশি সামরিক পরিকাঠামোও রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই বস্তি খালি করার কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু যে এলাকায় পুনর্বাসনের কথা বলা হয়েছে, তা অন্তত ৪৫ কিলোমিটার দূরে, এ কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বস্তিবাসীরাও। আদালতে তা কথা তুলে ধরেন তাঁদের পক্ষের আইনজীবী। তাঁর সওয়াল, যে হেতু বস্তিবাসীরা সকলেই খেটেখাওয়া মানুষ, তাই এ ভাবে উচ্ছেদ করলে তাঁদের রুজিরুটিতে টান পড়তে পারে। তার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিবারপিছু এক জন সদস্য এক বছরের জন্য বিনামূল্যে বাসে যাতায়াত করতে পারবেন। পাশাপাশি ১-৩ বছরের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে মেট্রোর কার্ডও দেওয়া হবে।